মোবাইল ব্যাংকিং

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:১১

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবন ক্রমেই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির উত্কর্ষতায় বর্তমানে আমাদের দেশে শুরু হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। এখন টাকা তুলতে কিংবা জমা দিতে ব্যাংকে আর না গেলেও চলে। মোবাইল ব্যাংকিং হচ্ছে শাখাবিহীন এমন একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে স্বল্প খরচে, সহজে দ্রুত আর্থিক সেবা ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিতজন  গোষ্ঠীের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। ‘মোবাইল ব্যাংকিং’ এর মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন ও জমাদান; বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও উপযোগ সেবার বিল পরিশোধ; বেতন উত্তোলন; প্রবাসী আয় প্রেরণ ও গ্রহণ; সরকারি ভাতা প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম সমপন্ন করা হয়। ২০০৯ সালে ৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংককে মোবাইল ফোন নির্ভর ব্যাংকিং সেবা চালুর অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো সীমিত আকারে মোবাইল ব্যাংকিং চাল ুকরেছে। তবে ডাচ-বাংলা ব্যাংকই সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে। ২০০৯ সালের ৩১ মার্চ এর উদ্বোধন হয়। এটি সুবিধাজনক, সহজলভ্য ও নিরাপদ। দেশব্যাপী যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে এ সেবার নিশ্চয়তা রয়েছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ও কম খরচে টাকা লেনদেন এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবায় প্রবেশের সুযাগে সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১০০ টাকায়, অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে ও একজন গ্রাহক মোবাইল অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। মোবাইল ফোন থাকলেই এ অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এক্ষেত্রে গ্রাহকের মোবাইল ফোন নম্বরটিই হবে অ্যাকাউন্ট নম্বর। ব্যাংক কর্তৃক মনোনীত এজেন্ট পয়েন্টে মোবাইল অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্যে কেওয়াইসি ( Know Your Client ) ফরম, গ্রাহকের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অন্য যেকোনো ছবি সংবলিত গ্রহণযাগ্যে পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে।

রেজিস্ট্রেশন করলে একটি গোপন পিন নম্বর পাওয়া যায়। পিন নম্বরটি  গোপন হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং সমপূর্ণ নিরাপদ। বর্তমানে একজন গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিংয়ে একদিনে সর্বোচ্চ পাঁচবার টাকা জমা দিতে বা তুলতে পারেন। আর একমাসে সর্বোচ্চ ২০ বার জমা দেওয়া বা ওঠানো যায়। পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ২৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে অনুমতি দিয়েছে।

ইতোমধ্যে দেশের ৪৫০১টি ইউনিয়নে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, দৈনিক গড়ে ১২৫.২৫ (প্রায়) কোটি টাকা মোবাইল ব্যাংকিং খাতে লেনদেন হয়। এ সেবার আওতায় কেউ অ্যাকাউন্ট খুললে দেশের যেকোনো স্থান থেকে ব্যাংকিং সুবিধা পাবে। এর মাধ্যমে টাকা জমা ও উত্তোলন ছাড়াও কেনাকাটার বিল পরিশাধে, ইউটিলিটি বিল পরিশোধে, বেতন-ভাতা উত্তোলন, রেমিট্যান্স বিতরণসহ মোবাইলে তাত্ক্ষণিক ব্যালেন্স রিচার্জ ইত্যাদি সেবা গ্রহণ করা যায়।

যেকোনো অপারেটরের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা এ ব্যাংকিং সেবা পেতে পারেন। শুধু গ্রাহক নয়, মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমে এজেন্ট হিসেবে অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খুবই স্বল্প উপাদান এবং পুঁজিতে এই ব্যবসা করা যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মোবাইল ব্যাংকিং অন্যতম ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।