বিভিন্ন স্থানে নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৫

শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশা

g ইত্তেফাক ডেস্ক

শৈত্যপ্রবাহ আর কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর। 

ঝিনাইদহ: গত কয়েক দিন পশ্চিমের জেলাগুলোতে বৃষ্টি হয়েছে। আর সোমবার থেকে আকাশ মেঘমুক্ত হওয়ার পর শীত আবার জেঁকে বসেছে। যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর বইছে উত্তরের ঠান্ডা হাওয়া। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। নামছে পারদ। রবিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুই দিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার তা নেমে আসে  ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম আজাদ জানান, মধ্য রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত আকাশ মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। এজন্য দুপুর পর্যন্ত সূর্য দেখা যায় না। এতে ঠান্ডার অনুভূতি বেড়ে গেছে। এ অবস্থা আরো কয়েক দিন চলবে বলে তিনি জানান। এদিকে তীব্র শীতে বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ছড়িয়ে পড়েছে। মরিচ ও বেগুন উত্পাদন কমে গেছে। 

নীলফামারী: রাতে কনকনে ঠান্ডা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে নীলফামারীতে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল আকাশ। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জেলার জনজীবন। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের সহকারী কর্মকর্তা লোকমান হাকিম এ তথ্য জানান।

সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের পাটকামুড়ি গ্রামের নিবারণ চন্দ্র রায় বলেন, রাতের শিরশির ঠান্ডায় ঘুম আসে না। শীতে কাজও করতে পারছি না। শীত নিবারণের কাপড় কেনার টাকাও নেই।

এদিকে কনকনে শীতে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গৃহস্থবাড়ির লোকজন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস এ হায়াত বলেন, নীলফামারী জেলায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ৪২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ২ হাজার কম্বল বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম): উলিপুরে ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান বীজের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।

মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কয়েকজন কৃষক তাদের বীজতলা রক্ষার জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের রাজারাম গ্রামের কৃষক সুফিয়ান জানান, আমরা চার ভাই মিলে একই জমিতে বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক আ. হাই জানান, আমার দুই একর জমির জন্য বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জমিতে চারা রোপণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে বোরো ধান বীজ চারা সংকটের আশঙ্কা নেই।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): পাঁচবিবিতে ঘন চলতি মৌসুমের  ইরি-বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার সালুয়া গ্রামের পবন চন্দ্র বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব বীজতলার ধানের চারা ইতিপূর্বে একই সময়ে ৫ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা ও তরতাজা হলেও টানা শীতের কবলে পড়ে এবার ধানের চারাগাছের উপরি ভাগে লালচে আকার ধারণ করছে এবং ক্রমান্বয়ে লালচে আকার ধারণকারী চারাগুলো মরে যেতে শুরু করছে। অনেকেই ইরি-বোরো বীজতলার চারার রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ রকম সমস্যায় থিওভিট নামক ওষুধ বীজতলায় স্প্রে এবং সম্ভব হলে রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।