সাতকানিয়ায় আগাম বোরো রোপণ শুরু

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৭

g  দিদারুল আলম, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

তীব্র শীত, কুয়াশা ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর অনেক আগে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে। এ কারণে কৃষক-কৃষানিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বোরো ধান রোপণ থেকে শুরু করে ধান পাকা পর্যন্ত খেতে প্রাকৃতিক পানিই বেশি থাকলে লাভবান হবেন কৃষক। বোরো খেতে পানির সমস্যা হওয়ায় ও বর্তমান বাজারে ধানের দাম কম থাকায় এবং উত্পাদন খরচ পুষিয়ে না উঠার শংকায় স্বস্তি নেই কৃষকের মনে। বোরো রোপণ করতে খরচ, আগাছা, সার, কীটনাশক ইত্যাদি মিলিয়ে উত্পাদন খরচ সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে জানান অনেক কৃষক। সাতকানিয়া ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় বোরো রোপণের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫০৫ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড-২০৭০ হেক্টর ও উফশী-৪৪৩৫ হেক্টর।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাতকানিয়ার একটি পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নের ধানি বিলে কৃষদের মধ্যে কেউ বোরো ধান রোপণ করছেন, কেউ জমি তৈরি করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর জমিতে তারা হাইব্রিড-এসএল ৮ এইস, টিয়া, হীরা-২, হীরা-৬, সিনেজন্টা-১২০৫, ব্রি-৬৪, ৭৪, ৮১, ২৮, ২৯, ৩৩, ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৫৫, ৫৮ জাতের ধান রোপণ করবেন।

উপজেলার সোনাকানিয়ার গারাংগিয়া গ্রামের বোরো চাষি জাহাঙ্গীর আলম, হাতিয়ারকুলের কৃষক নুরুল কবির, বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া বিলের মো. রহমান জানান, তারা এখনো অর্ধেক জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। রুপকানিয়ার বোরো চাষি মামুন জানান, মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি, তাই এ বছর ফলন বেশি হতে পারে। বোরো চাষি রহমান জানান, ধান রোপণ করার সময় মুজুরি খরচ, সার, কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার ও ধান কাটাসহ যা খরচ হবে উত্পাদিত ধান বিক্রি করে তার খরচ উঠে আসে কি না সন্দেহ। খেতে সেচের জন্য মাথা ব্যথা, কৃষি কার্ড থাকলেও সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে ভাগ্য লাগে। কারণ এখন সরকারি গুদামে এখন ধান নেয় লটারির মাধ্যমে।

উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত জানান, এ বছর একটু আগে থেকে তার ইউনিয়নের মাহালিয়া বিলে বোরো চাষিরা বোরো ধান রোপণ করছেন।

সাতকানিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, এখন উপজেলার বোরো চাষিরা সবেমাত্র বোরো ধান রোপণ করা শুরু করেছেন। যে সমস্ত কৃষক উপজেলার মাঠ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বোরো ধান রোপণ করবেন তাদের ফলন আশা করি চাহিদার চেয়ে বেশি হবে । তিনি আরো জানান, এ বছর আগে থেকে যে হারে চাষিরা বোরো ধান রোপণ করতে শুরু করেছেন সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভবনা বেশি।