স্পোর্টস ডেস্ক
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির প্রস্তাবের সরাসরি বিরোধিতা করলেন শচীন টেন্ডুলকার। ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান মনে করেন, খেলাটির সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ফরম্যাটে কোনো পরিবর্তন মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
আইসিসি চিন্তা করছে টেস্ট ক্রিকেটকে স্থায়ীভাবে চার দিনে নামিয়ে আনা হবে। সময় ও সূচি বাঁচানোর জন্য চার দিনের টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে আইসিসি। এই পরিকল্পনা মাথায় রেখেই এগোচ্ছে তারা। তাদের পরিকল্পনা ২০২৩ আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলো চার দিনে শেষ করা।
আর এই নতুন উদ্যোগের খবরে দুনিয়া জুড়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে জোর গলায় কথা বলছেন। বেশির ভাগ বর্তমান ক্রিকেটারই বলছেন, এটা টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষতি করবে।
বিরোধিতা করেছেন জো রুট, রিকি পন্টিং, শোয়েব আখতার, জাস্টিন ল্যাঙ্গার কিংবা ন্যাথান লিঁওরা। ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিও শক্তভাবে এর বিরোধিতা করেছেন। এবার তারই পূর্বসূরি শচীন টেন্ডুলকার আরো কড়া ভাষায় এর বিরুদ্ধে মত দিলেন।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) টেন্ডুলকার বলেন, ‘আমি যদি একজন শুদ্ধবাদী ও টেস্ট ক্রিকেটের একজন ভক্তের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবি, তবে আমার মতে এখানে পরিবর্তনের কিছু নেই। এই ফরম্যাটে সেভাবেই খেলা উচিত, যেভাবে গেল অনেক বছর যাবত্ খেলা হয়ে আসছে।’
ব্যাখ্যা করে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ টেস্ট খেলা শচীন আরো বলেন, ‘পুরোনো বলে স্পিনাররা বল করতে চায়। পঞ্চম দিনের পুরোনো উইকেটে তারা সুবিধা পায়। এগুলো সবই তো টেস্ট ক্রিকেটের অংশ। তাদের এই সুবিধা কেড়ে নেওয়া কি উচিত? এটা অনেকটা ফাস্ট বোলারের কাছ থেকে প্রথম দিনের ট্র্যাক ছিনিয়ে নেওয়ার মতো।’
চার দিনের টেস্ট ব্যাটসম্যানদের নির্ভার করে দেবে বলে মানছেন শচীন। বললেন, ব্যাটসম্যানরা ভাবতে শুরু করবে যে এটা সীমিত ওভারের একটা বড়ো পরিসরের ম্যাচ। কারণ দ্বিতীয় দিন লাঞ্চ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারলেই তো হাতে আর মাত্র আড়াই দিন বাকি থাকবে। এখন পর্যন্ত টেস্টই হলো একমাত্র ফরম্যাট, যেখানে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জে ফেলার সুযোগ থাকে। সেজন্যই তো এর নাম টেস্ট। এখানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মানিয়ে নেওয়া জানতে হয়।’
আইসিসির এই ভাবনার পেছনে বাণিজ্যিক একট দিক অবশ্যই আছে। শচীনও সেটা মানেন। তবে শচীনের ভাবনা হলো, বাণিজ্যের জন্য নির্ভর করতে হবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দিকেই। বললেন, ‘তারা টেস্টে কেন পরিবর্তন আনতে চায় সেটা আগে বুঝতে হবে। অবশ্যই একটা কারণ আমরা সবাই জানি। আর সেটা হলো বাণিজ্যিক লাভ। হ্যাঁ, এটা অবশ্যই দর্শকদের জন্য আরো বেশি বিনোদনদায়ী। এটা জরুরি। তবে, তার জন্য টেস্ট থেকে নজরটা সরাতে হবে ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টির দিকে। আর এখন তো টি-টেন ক্রিকেটও আছে। টেস্ট ক্রিকেটের একদম শুদ্ধ ভক্ত যারা, তাদের জন্যও তো কিছু থাকা দরকার।’
শচীন মনে করেন, টেস্টকে আরো বেশি বিনোদনদায়ক করতে পরিবর্তন নয়, বরং উইকেটের মান বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘চার দিনের টেস্ট খেলার মূল সুরটাই নষ্ট হয়ে যাবে। একটা ভালো টেস্ট ম্যাচের জন্য দরকার ভালো উইকেট। তাই আইসিসির উচিত যেসব উইকেটে খেলা হয় তার মানোন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া। তাহলেই দেখবেন হু-হু করে লোকে মাঠে আসবে টেস্ট দেখতে কিংবা টেলিভিশন সেটের সামনে থেকে উঠতেও পারবে না।
