নেয়ামত উল্লাহ
সদ্যসমাপ্ত ফেডারেশন কাপে বিদেশিরা বরাবরের মতো প্রায় প্রতিটি ম্যাচেরই নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়ালেও স্থানীয় স্ট্রাইকাররা জ্বলে উঠতে পারেননি।
সিডনি রিভেরা, দানিয়েল কলিন্দ্রেস, ক্রেভেন্স বেলফোর্টদের আলোর পাশে দেশীয়রা জ্বলেছেন নিভু নিভু হয়ে। সর্বোচ্চ গোল করা দেশীয় ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন গোল পেয়েছেন মোটে দুটি। বাকিদের কেউই পাননি একাধিক গোলের দেখা।
গেল বছর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দৃশ্যত ভালো খেললেও গোলমুখে ব্যর্থতা ভুগিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। আফগানিস্তান, কাতার আর ভারতের বিপক্ষে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে পয়েন্টের সংখ্যা বাড়তেও পারত। সমস্যাটার সমাধান যে খুব সহসাই মিলছে না সে বার্তাটাই যেন দিয়ে গেল সদ্যসমাপ্ত ফেডারেশন কাপ।
মৌসুম শুরুর এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল এসেছে চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসা পুলিশ এফসির স্ট্রাইকার সিডনি রিভেরার পা থেকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় এই ফরোয়ার্ডের করা চার গোলে ভর করেই মূলত আরামবাগ আর সাইফ স্পোর্টিংকে হারিয়ে শেষ চারে এসেছিল দলটি।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল বসুন্ধরা কিংস অধিনায়ক দানিয়েল কলিন্দ্রেসের। কোস্টারিকান এই ফরোয়ার্ড গ্রুপ পর্ব আর কোয়ার্টার ফাইনালে নিষ্প্র্রভ থাকলেও শেষ দুই ম্যাচে ফেরেন স্বরূপে। সেমিফাইনাল আর ফাইনালে তার তিন গোলই বসুন্ধরাকে পাইয়ে দেয় অধরা ফেডারেশন কাপ শিরোপা। আবাহনীর জন্য এবারের প্রতিযোগিতা সুদূরপ্রসারী না হলেও ফরোয়ার্ড ক্রেভেন্স বেলফোর্ট তিন গোল করেছিলেন। দুই গোল করাদের তালিকায় জীবনের সঙ্গে আছেন তারই আবাহনী সতীর্থ সানডে চিজোবা, মোহামেডানের সোলেমান ডায়াবেট, মুক্তিযোদ্ধার ইসমাইল বাঙ্গুরা, সাইফ স্পোর্টিংয়ের মুরোলিমঝন আখমেদভ ও বসুন্ধরার জালাল কদুহ।
আগের আসরের চেয়ে এবার লক্ষ্যভেদ করা দেশীয় ফরোয়ার্ডের সংখ্যা বেড়েছে। গেলো আসরে সংখ্যাটা ১৪ হলেও এবারের আসরে গোল পেয়েছেন ১৬ জন বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড। তবে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল প্রায় সবার মাঝেই। একবারের বেশি লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি কেউ।
দেশীয় ফরোয়ার্ডদের এমন ব্যর্থতার একটা কারণ হতে পারে ক্লান্তি, অভিমত কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীর। গেল লিগ মৌসুম শেষ হওয়ার কিছু পরেই শুরু হয় বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইপর্ব। বছর শেষে এসএ গেমসে অনূর্ধ্ব ২৩ দলের হয়ে খেলতে হয়েছে দলের অনেককেই। টানা খেলার ধকলকে ব্যর্থতার একটা নিয়ামক হিসেবে দেখছেন রহমতগঞ্জ কোচ জিলানী।
পুরান ঢাকার ক্লাবটির নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফেডারেশন কাপ ফাইনালে নিয়ে যাওয়া এই কোচ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘অবসাদ একটা কারণ তো অবশ্যই। খেলোয়াড়রা একটা বড়ো সময় ধরে খেলে যাচ্ছে ফলে ক্লান্তি চলে আসার সুযোগ থাকেই। তবে এর বাইরে যারা দেশি খেলোয়াড় আছে তারাও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।’
মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্টে গেল আসরের চেয়ে মোট গোলের সংখ্যাও কমেছে। দলগুলোর কৌশলও দেশীয় ফরোয়ার্ডদের গোল না পাওয়ার কারণ, জানালেন জিলানী। তিনি বলেন, ‘সব দলই আঁটসাঁট রক্ষণ নিয়ে খেলেছে এবার। ফলে গোল পাওয়া কারো পক্ষেই সহজ ছিল না।’
বিদেশিদের তুলনায় দেশীয় খেলোয়াড়দের শারীরিক শক্তির অভাবও দায়ী এর পেছনে। জিলানীর ভাষ্য, ‘সবার রক্ষণেই কমবেশি বিদেশি খেলোয়াড় ছিল যাদের টেক্কা দিতে বিদেশি ফরোয়ার্ডদের প্রয়োজন। দেশীয় খেলোয়াড়রা শারীরিক শক্তির দিক দিয়ে তাদের থেকে কিছুটা পিছিয়েই আছে।’
