অস্বস্তিতে আছেন ক্রিকেটাররা ** বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর
স্পোর্টস রিপোর্টার
সফরটা হলে আর ১০ দিন পরই পাকিস্তান রওনা হয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। কিন্তু এখনো পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ দল যাবে কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। ১২ তারিখ বোর্ড সভায় হতে পারে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তার আগে সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাকিস্তান সফর নিয়ে আলাপ শুরু করেছে বিসিবি। এর অংশ হিসেবে রাজি হওয়া ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সম্মতিপত্র রাখা হচ্ছে এবং বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আলাদা করে কথা বলছেন ক্রিকেটারদের সঙ্গে।
গতকাল বিসিবির একটি সূত্র জানাল, সম্মতিপত্র প্রতিটি বিদেশ সফরের আগেই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে রাখা হয়। তবে এবারের এই পদক্ষেপটা শুরুর অর্থ হলো, পাকিস্তান সফর নিয়ে বিসিবি ভেতরে ভেতরে কাজ শুরু করেছে। ক্রিকেট-বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে একজন টেস্ট স্পেশালিস্ট ক্রিকেটার জানিয়েছেন, তিনি সম্মতিপত্রে সই করেছেন। পাশাপাশি বিসিবির উচ্চ পর্যায়ের সূত্রটি দাবি করেছে, আলোচনায় অনেক ক্রিকেটারই পাকিস্তান যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের অস্বস্তির কথা বলেছেন।
আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সূচি অনুযায়ী পাকিস্তানের মাটিতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে দুটি টেস্ট খেলার কথা বাংলাদেশের। সেই সঙ্গে ভবিষ্যত্ সফরসূচি বলছে, এই সফরে বাংলাদেশ তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলবে। ১৮ জানুয়ারি এই সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। কিন্তু বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এত লম্বা সফরের জন্য পাকিস্তানে যেতে রাজি নন বলে বোর্ড সভাপতি জানিয়েছিলেন।
কোচদের অনীহা ও খেলোয়াড়দের অনেক দিন থাকায় অনাগ্রহ মিলিয়ে বিসিবি প্রথমে প্রস্তাব দিয়েছিল, তারা তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলে চলে আসবে। এরপর টেস্ট সিরিজ হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। কিন্তু পিসিবি পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, তারা আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলবে না। এরপর বিসিবি বলে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর দেশে ফেরা খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া দেখে টেস্ট দুটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। কিন্তু পিসিবি কঠোরভাবে জানায় যে, একবারেই সূচি অনুযায়ী সফর শেষ করে আসতে হবে।
সবশেষে জানা গেল, বিসিবি প্রস্তাব দিয়েছিল তিনটি টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট খেলার পর দল ফিরে আসবে। আর একটি টেস্ট ঢাকায় আয়োজন করবেন তারা। কিন্তু এই প্রস্তাবও উড়িয়ে দিয়েছে পিসিবি।
এখন ক্রিকইনফো জানাচ্ছে, যেসব খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সম্মতিপত্রে সই নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একজন টেস্ট স্পেশালিস্টও আছেন। তার মানে বিসিবি পাকিস্তানে টেস্ট খেলার ব্যাপারে একরকম চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। তবে ১২ জানুয়ারি বোর্ড সভার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হবে না বলেই বোর্ড সূত্রে জানা গেল।
বোর্ডের একটি সূত্র বলেছে, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বেশ কয়েক জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে গতকালও কথা বলেছেন। সেই আলোচনায় কোনো খেলোয়াড় যাবেনই না, এমন করে কিছু বলেননি। তবে খেলোয়াড়দের টানা থাকা নিয়ে অস্বস্তি আছে, এটা তিনি স্বীকার করেছেন, ‘দেখুন, বোর্ড নিজেও এই সফর নিয়ে খুব স্বস্তিতে নেই। আমরা নিজেরাই এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করিনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তখন বোঝা যাবে, কত জন খেলোয়াড় যেতে চাচ্ছেন না। তবে এটা বলতে পারি, খেলোয়াড়রা বোর্ড সভাপতিকে তাদের অস্বস্তির কথা বলেছে।’
