অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করিতে হইবে

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৮

দেশে বহু ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিয়া চলিয়াছে। ইহার মধ্যে কোনো কোনো ঘটনা লইয়া দেশের মানুষ, ছাত্রসমাজ উত্তাল হইয়া উঠিতেছে। তখন দায়সারা গ্রেফতার অথবা তদন্ত কমিটি গঠন করা হইতেছে। আবার যেই সকল অনাচার পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলে ফলাও করিয়া ছাপা হইতেছে না, তাহা যেন অন্ধকারেই থাকিয়া যাইতেছে। কোন ঘটনা কাহারা ঘটাইতেছে, আদৌ কাহাকে চিহ্নিত করিয়া বিচারের সম্মুখীন করা হইতেছে কি না, তাহাও রহিয়া যাইতেছে অজানা। তবে কোনো কোনো ঘটনা জানিতে পারিয়া চিন্তিত হইয়া পড়ি। ৬ তারিখ রাত্রে দেশের বিশিষ্টজন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি, ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি সর্বজনশ্রদ্ধেয় ডা. সারওয়ার আলীর বাসায় প্রবেশ করিয়া দুর্বৃত্তরা তাহাকে সপরিবারে হত্যা করিতে চেষ্টা করিয়াছে। সৌভাগ্যবশত তিনি বা তাহার আত্মীয়-পরিজন কেহ নিহত হন নাই। কিন্তু ঘটনাটি মোটেই সাদামাটা নহে। উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের ঘটনা কী করিয়া ঘটে?  দ্বিতীয়ত,  ডা. সারওয়ার আলী একজন চিন্তক। তাহার রহিয়াছে সুনির্দিষ্ট মত ও দর্শন। তাহাকে স্তব্ধ করিবার প্রয়োজন হইল কেন, ইহা সকলকে ভাবিতে হইবে।

এই যে দেশব্যাপী নানা অপরাধ সংঘটিত হইতেছে, তাহা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতে হইতে পারে না।  উপজেলা, জেলা এবং রাজধানীসহ সারাদেশে যত ধরনের অপরাধ ঘটিতেছে, তাহার সিংহভাগই যে তাহাদের জ্ঞাতসারে হইতেছে তাহা লইয়া কোনো সন্দেহ নাই। একটি পুলিশ জুরিশডিকশনে কে কী করিতেছে, কে অপরাধী, কোন এলাকায় কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হইয়া থাকে তাহা পুলিশের নজরদারিতে থাকে অথবা থাকিবার কথা। অপরাধীদের যেই সকল চক্র থাকে, তাহাও পুলিশের নিকট অপরিচিত নহে। বরং বহু ক্ষেত্রে এই সকল অপরাধী চক্রের সঙ্গে পুলিশের ‘বিশেষ যোগাযোগের’ অভিযোগ পাওয়া যায়। ধরা যাউক, ইয়াবা ব্যবসায়ের কথা। ইয়াবা তথা মাদকের বিরুদ্ধে খোদ সরকারপ্রধান শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণা দিয়াছেন। অথচ ইয়াবা ব্যবসায় এখনো বহাল তবিয়তে রহিয়াছে। কেন ইহা বন্ধ হইতেছে না? ইহার কারণ এই ব্যবসায়ে প্রশাসনের সম্মতিসূচক চোখের ইশারা রহিয়াছে। মাঝেমধ্যে দুই-চারটি চালান ধরা পড়ে বটে, কিন্তু তাহা ‘আইওয়াশ’ বলিয়াই জনগণের কাছে প্রতীয়মান হয়।

সুতরাং যে কোনো সরকারের সময়েই হউক না কেন, ইহা বন্ধ হয় নাই বা হইবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া বন্ধ না হইবে।  কেবল পুলিশ প্রশাসন নহে, কখনো কখনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও পাইয়া থাকে অপরাধীরা। অতএব সরিষার মধ্যেই আগে ভূত খুঁজিতে হইবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক করিতে হইলে, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করিতে হইলে সর্বাগ্রে এই পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান বন্ধ করিতে হইবে।