মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্য
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সদ্য বিদায়ি ২০১৯ সালে দেশে সবচে বেশিসংখ্যক শিশু অর্থাত্ ৯৮৬ শিশু নিহত হয়েছে বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার সংখ্যা ৫৫৩ এবং পানিতে ডুবে মারা গেছে ২৫২ শিশু। এছাড়া ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, হত্যা, অপহরণ, নিখোঁজ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছে আরো ৩৬১ শিশু। ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আটটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের সমন্বয়ে এ তথ্য জানায়। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘শিশু পরিস্থিতি পর্যালোচনা ২০১৯ : সংবাদপত্রের পাতা থেকে’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ তথ্য জানান। এ সময় অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যারমা দত্ত, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রুহুল আমীন। সম্মেলন পরিচালনা করেন এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন এমজেএফ শিশু সুরক্ষা প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর রাফেজা শাহীন।
রাফেজা শাহীন বলেন, গত বছর ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৯০২ শিশু। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৫৬ জন। গত বছর হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ২৮০ শিশুকে। এর মধ্যে নিহত হয়েছে ২৬৬ শিশু। ২০১৮ সালে নিহতের এই সংখ্যা ছিল ২২৭। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অন্যান্য বছরের তুলনায় গতবছর শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৯ সালে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশুরাই ধর্ষণের শিকার হয়েছে সবচে বেশি অর্থাত্ শতকরা ৪৮ শতাংশ । এরপর আছে সাত থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুরা ৩৯ শতাংশ। সর্বোচ্চসংখ্যক ধর্ষণের সংবাদ ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা জেলায়, ২য় অবস্থানে নারায়ণগঞ্জ এবং ৩য় অবস্থানে আছে ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা জেলা। শিশুদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে, চকলেট বা খাবারের লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে, মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে, ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার সংখ্যা ৯৩ শিশু। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৭।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছে ৩২৯ শিশু। এর মধ্যে মারা গেছে ২৬৬ এবং আহত হয়েছে ৬৩ শিশু। ২০১৮ সালে হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার সংখ্যা ছিল ২৭৬। এর মধ্যে মারা গেছে ২২৭ এবং আহত হয়েছে ৪৯ জন।
২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেছে ৬৫ শিশু এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হয়েছে ৯ শিশু। ২০১৮তে এই কারণে মৃত্যুরসংখ্যা ছিল ১৫২। এছাড়া একই বছর অপহরণের শিকার হয়েছে ৮৩ শিশু। এর মধ্যে মারা গেছে ১২ এবং আহত হয়েছে ৭১ শিশু। ২০১৯ সালে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৫৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১২ এবং আহত হয়েছে ১৪৭ শিশু। দেখা যায়, গত বছর আগের বছরের তুলনায় আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনা ছিল কম।
গত বছর কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয়েছে পাঁচ শিশু। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তিন মেয়ে শিশু নির্যাতিত হয় এবং এদের মধ্যে দুই জন মারা যায়। গৃহকর্তা, বাবা-মা, স্কুলের শিক্ষক, উত্ত্যক্তকারী, স্থানীয় চেয়ারম্যান, কর্মক্ষেত্রের মালিক, প্রতিবেশী, আত্মীয়, সত্-মা, সহকর্মী দ্বারা নির্যাতন করার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে নির্যাতিতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
