সরকারের বছরপূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী

মুজিববর্ষে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শপথ নিন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, আসুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা দল-মত নির্বিশেষে সবাই মিলে তার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন করে শপথ গ্রহণ করি। সরকারের একবছর পূর্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার ওপর ভরসা রাখুন। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সব ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যার ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ             বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন-রেডিও এবং অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। মানুষ আজ স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসময় তিনি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পাতালরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ প্রভৃতি উন্নয়নকাজের কথা তুলে ধরেন।

যে-ই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের হক যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণের রায়ই হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের একমাত্র উপায়। আমরা সংসদকে কার্যকর করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সরকারি, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ সংসদকে প্রাণবন্ত করেছে। তিনি বলেন, যে কোনো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে অযৌক্তিক দাবিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে আমরা বরদাশত করব না। এসময় তিনি আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি-সন্ত্রাস এবং মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, এ বছর উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আমরা ইতিমধ্যেই ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অনুষ্ঠানমালা যুগপত্ভাবে চলতে থাকবে। এই উদ্যাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা; স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি বীরের জাতি। ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। এমন জাতি পৃথিবীতে কোনো দিন পিছিয়ে থাকতে পারে না। আমরাও আর পিছিয়ে নেই। জিডিপি প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার অর্জনের পাশাপাশি নানা সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ, শিক্ষার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ তার দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদেরই শুধু নয়, অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী পিপিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান ৩০তম। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ২৩তম স্থান দখল করবে। এসময় তিনি তার বক্তব্যে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণ, পাবনার রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের নির্মাণকাজ, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যার সমাধান, মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমানার বিরোধ মীমাংসার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

দেশবাসীকে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার পরিচালনা করছি। আর সে লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ সবার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আরো বলেন, আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।

 ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন

প্রচেষ্টায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে’

বাসস জানায়, অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ী হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে বাংলাদেশ চমকপ্রদ আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং আমরা দেশটির (বাংলাদেশ) উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো।’

গতকাল সন্ধ্যায় জুলিয়া নিবলেট গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে একথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

এদিকে পরে শ্রীলংকার বিদায়ী হাইকমিশনার এ ডব্লিউ জে ক্রিসান্থে ডি সিলভাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে বিদায়ী সাক্ষাত্ করেন বলে প্রেস সচিব উল্লেখ করেন। বৈঠকে শ্রীলংকার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান চমত্কার সম্পর্কের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা সব সময়ই তার প্রতিবেশির সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।’