যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল

ফেরত যাচ্ছে ১১ কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২১

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ পাওয়া ১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানের অভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। এজন্য দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ জেলা যশোর ও আশপাশের জেলার রোগীরা সরকারি সেবার কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছেন, আগামী জুন মাসের মধ্যেই হাসপাতালের চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ফেজে মেশিনগুলো পাওয়া যাবে। তবে দ্বিতীয় ফেজে যে সহসাই মেশিন মিলবে, এমন গ্যারান্টি কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।

সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল মেশিনারিজ বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরই হাসপাতালের জন্য একটি ডিজিটাল এক্সরে, আলট্রাসনো এবং সিটিস্ক্যান মেশিন বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। গত ডিসেম্বর মাসে মন্ত্রণালয় পুনরায় দুটি আধুনিক ডিজিটাল এক্সরে ও ১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে একটি আধুনিক ৫০০ এমএম ডিজিটাল এক্সরে মেশিন বসানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে স্থান সংকটের কথা জানিয়ে বাকি একটি এক্সরে মেশিন এবং ১১টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে হাসপাতাল থেকে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। সূত্র জানায়, যশোরের পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন রয়েছে। এসব হাসপাতালে যশোর ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার অন্তত ৬০০ থেকে ৮০০ রোগী প্রতি মাসে ডায়ালাইসিস সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন।

সেবামূল্য বেশি হবার কারণে এর বাইরে অনেকের পক্ষেই সে সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সাধারণ মানুষের চিকিত্সা সুবিধা সহজলভ্য করার জন্য মন্ত্রণালয় দেশের প্রতিটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের জন্য কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন বরাদ্দ করেছে। কিন্তু স্থান সংকটের কারণ দেখিয়ে প্রথম ফেজের বরাদ্দ পাওয়া এসব মেশিন গ্রহণ করতে পারেনি যশোর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, জুন মাসের মধ্যেই হাসপাতালের চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ শেষ হবে। তখন দ্বিতীয় ফেজে আবারও কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন চাওয়া হবে। চাওয়া হলেই কি পাওয়া যাবে—এমন প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।