শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর শহর ঘেঁষে বয়ে চলা খড়স্রোতা করতোয়া পানিশূন্যতায় এখন মৃতপ্রায়। চৈত্রের আগেই নদীর দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা শুকিয়ে গেছে। পানি না থাকার সুযোগে নদীপারের কৃষকেরা ধান, সরিষাসহ নানা ফসল চাষ করছেন।
একসময়ের বাঙ্গালী নদী বর্তমানে করতোয়া বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী যমুনা ও বড়াল নদীর মোহনায় মিলিত হয়েছে। কিছুদিন আগেও খড়স্রোতা নদীর নামের তালিকায় ছিল করতোয়া। দেখা মিলত জেলেদের কর্মব্যস্ততা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড়ো বড়ো নৌকায় ধান, পাট, সরিষাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়া করা হতো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী করতোয়া নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায় বুক জুড়ে জেগে ওঠে ধুধু বালুচর।
বর্তমানে নদীর গতিপথ ও পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শাহজাদপুরের অর্থনীতিতেও পড়েছে এর প্রভাব। একদিকে যেমন জেলেরা মত্স্য শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি উপজেলা শহরের সঙ্গে নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব চলে এসেছে।
পোরজনা গ্রামের পাট ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন, ডায়া গ্রামের ছোরমান হোসেনসহ অনেকে জানান, যমুনা নদীতীরবর্তী সোনাতুনী, গালা, রূপবাটি পোতাজিয়া, পোরজনা ইউনিয়নের মানুষ এ নদীপথেই উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগসহ মালামাল আনা-নেওয়া করত। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এসব ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগে এখন চরম বিঘ্ন ঘটছে। মরে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। নদী দখল করে করা হচ্ছে চাষাবাদ।
