—ইমরুল কায়েস
এবার বিপিএলে যেনো নিজেকে নতুন করে চেনাচ্ছেন জাতীয় দলের ওপেনার ইমরুল কায়েস। ১০ ম্যাচে ৩৮৬ রান নিয়ে এখন পর্যন্ত এবারের আসরে তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রাহক তিনি। করেছেন চারটি ফিফটি। এই দারুণ ফর্মে থাকা অবস্থায় নিজেকে ও বিপিএলকে ফিরে দেখেছেন ইমরুল কায়েস।
একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
অসাধারণ একটা বিপিএল কাটাচ্ছেন। কেমন উপভোগ করছেন?
ভালো খেলতে থাকলে তো সবসময় ভালো লাগে। খুব ভালো লাগছে। সেই সাথে চেষ্টা করছি, ভালো এই সময়টা যতোটা কাজে লাগানো যায়। আমাদের টিমে আমার একটা বড়ো রোল আছে। আমি চেষ্টা করছি, যেহেতু ভালো রান করতে পারছি, এই সময়টায় টিমের জন্য যতো বেশি সম্ভব কন্ট্রিবিউট করতে হবে।
এবার বিপিএলে আপনি সম্ভবত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ধারাবাহিক সময় কাটাচ্ছেন। এটার জন্য কী আলাদা কোনো প্রস্তুতি ছিল?
আসলে খেলতে খেলতে তো অনেক কিছু শেখা যায়। অনেক বছর ধরে ক্রিকেট তো খেললাম, কয়েকটা বিপিএল খেললাম। ফলে নিজের খেলা থেকেই অনেক কিছু শিখেছি। আমার একটা বড়ো শিক্ষা হলো, আগে আমি ভালো খেললেও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারতাম না। এই বছরটায় আমার প্ল্যানই ছিল যে, আমি যখনই সুযোগ পাব, ম্যাচ শেষ করে আসব। কারণ, একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমার কাজ হলো অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলকে জেতানো। এই জায়গাটায় আমি নিজেকে চেঞ্জ করেছি বলতে পারেন।
তাহলে বলতে চাচ্ছেন যে, নিজের এই রানে থাকার চেয়েও দলকে জেতানোটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
অবশ্যই। এটা আপনি এই সিজনে আমার খেলা দেখলে বুঝতে পারবেন। আমি কিন্তু সবগুলো ম্যাচে একই রকম ব্যাট করিনি। কখনো বলে বলে রান করেছি, কখনো একটু সময় নিয়েছি, আবার কখনো বিগ হিট করেছি। দলের যেদিন যেরকম দরকার ছিল, সেভাবে খেলার চেষ্টা করেছি। আমার নিজের রান নিয়ে ভাবিনি।
গত বিপিএল থেকে আপনার বিগ হিট করার ব্যাপারটা বেশি চোখে পড়ছে। বড়ো বড়ো ছক্কা মারার জন্য কী আলাদা কিছু অ্যাডজাস্ট করতে হয়েছে?
কিছু টেকনিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্ট তো লাগেই। আমার শরীরের পজিশন, ব্যাটের পজিশন এবং আরো কিছু ব্যাপার নিয়ে কাজ না করলে এটা হতো না। এটা সত্যি যে, এই কাজটার (বিগ হিট) জন্য আমি নিজেকে একটু আলাদা করে তৈরি করেছি।
একটু অধিনায়কত্ব নিয়ে কথা বলি। গত মৌসুমে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন। এবার কী ফুলটাইম ক্যাপ্টেন্সি আশা করছিলেন?
নাহ। ওরকম কিছু না। অধিনায়কত্ব আমি অবশ্যই উপভোগ করি। এটা আমাকে বাড়তি দায়িত্বশীল করে তোলে। ফুল টাইম ক্যাপ্টেন্সি পেলে খুশিই হব। কিন্তু এবার তো দলে রিয়াদ ভাই আছেন। উনি ন্যাশনাল টিমের ক্যাপ্টেন, সিনিয়র ক্যাপ্টেন এবং খুব ভালো ক্যাপ্টেন। ফলে ওনার আন্ডারে খেলে আমি খুশি। উনি যে কয় ম্যাচ ছিলেন না, আমি আমার বেস্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন অধিনায়ক নই, সে নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই।
আপনাদের চট্টগ্রামের এখন পর্যন্ত যে সাফল্য, সেটার পেছনে কী কাজ করছে?
আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে মালিক পর্যন্ত, সবাই খুব আন্তরিক। আমাদের মালিক (স্পন্সর) আমাদের সাথে খুব ইনভলব আছেন। কোচ এবং অন্য স্টাফরা খুব সাপোর্ট করছেন। একটা পরিবারের মতো। তবে আমি সবচেয়ে বড়ো কৃতিত্ব দেব লোকাল খেলোয়াড়দের। এই ধরনের লিগে লোকাল খেলোয়াড়রা ভালো করলে কাজ সহজ হয়ে যায়।
জাতীয় দলে যে খারাপ সময়টা যাচ্ছিল, সেটা কেটে গেছে বলে মনে হচ্ছে?
আমি আসলে এভাবে ভাবি না। ভালো সময়, খারাপ সময়; দুটোই খেলোয়াড়ের জীবনের অংশ। ভালো খেললে প্রশংসা হবে, খারাপ খেললে সমালোচনা হবে। দুটোকেই নিতে পারতে হবে। আমি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বাস করি, খারাপ সময়টাকেও মেনে নেওয়া আমার জন্য সবচেয়ে ভালো। তাই ভালো সময়ে খুব উচ্ছ্বসিত হই না, খারাপ সময়ে খুব মন খারাপ করি না।
