বিনা সুদে কৃষিঋণ দিচ্ছে রূপালী ব্যাংক

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৯

রেজাউল হক কৌশিক

বিনা সুদে কৃষকদের ঋণ দেওয়া শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকটি নাটোর জেলায় টম্যাটোচাষিদের মধ্যে এই ঋণ বিতরণ শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে আম, লিচু, হলুদ ও আদা চাষে এই ঋণ দেওয়া হবে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিগুলোও লাভবান হবে। কৃষকেরা ক্ষতিকর দাদন ব্যবসা ও মধ্যস্বত্বভোগীর খপ্পর থেকে বের হতে পারবে। এছাড়া বিনা সুদের এই ঋণ নিলে কৃষকেরা তাদের উত্পাদিত পণ্য পরিবহনের খরচ থেকেও রেহাই পাবেন।

এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, প্রাথমিক প্রকল্প হিসেবে টম্যাটোচাষিদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সারাদেশের সব শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাষিদের মধ্যে বিনা সুদে ঋণ বিতরণ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বিনা সুদে এ ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, টম্যাটোচাষিদের মধ্যে ‘জিরো কুপন লেন্ডিং’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ব্যাংকটি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে নাটোরের ৫০০ টম্যাটোচাষিকে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৯-২০ অর্থবছরের কৃষিঋণ নীতিমালা অনুযায়ী এই পরিমাণ ঋণ দিয়ে একজন কৃষক ১ দশমিক ২৯ একর জমিতে টম্যাটো চাষ করতে পারবেন।

বিনা সুদের ঋণ প্রকল্প বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, নাটোর এগ্রো লিমিটেডের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের একটি চুক্তি হয়েছে। যেসব কৃষক ব্যাংক থেকে ঋণ নেবেন, তাদের উত্পাদিত টম্যাটো নাটোর এগ্রো কিনবে। এতে বাজারদরের চেয়ে বেশি দাম পাবেন কৃষকেরা। এছাড়া নাটোর এগ্রো কৃষকদের বীজ সরবরাহ করবে, নিয়মিত তদারক করবে এবং উত্পাদিত পণ্য নিজস্ব পরিবহনে করে নিয়ে যাবে। এতে কৃষকের উত্পাদন ও পরিবহন খরচ কমবে। অন্যদিকে নাটোর এগ্রোর সহায়তায় এই ঋণ আদায়েও কোনো সমস্যা হবে না। আবার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনার এই ব্যবস্থা করে দেওয়ার ফলে নাটোর এগ্রো কেজিপ্রতি কিছু টাকা ব্যাংককে দেবে। ফলে সব মিলিয়ে কৃষক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি ও ব্যাংক—সবার জন্য লাভ (উইন উইন সিচুয়েশন) হবে।