বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে শিশুধর্ষণ ও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে শিশুধর্ষণ বেড়েছে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ। যৌন নির্যাতন বেড়েছে ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ। হত্যা বেড়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। বিগত বছরে ৪ হাজার ৩৮১ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ৮৮ শিশুর অপমৃত্যু হয়েছে এবং ৪৪৮শিশু খুন হয়েছে। ১ হাজার ৩৮৩ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
শিশুদের নিয়ে কাজ করা ২৭২টি এনজিও-এর জাতীয় নেটওয়ার্ক ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’— বিএসএএফ। ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০১৯’ প্রতিবেদনে ফোরাম এ তথ্য তুলে ধরেছে। তবে ২০১৯ সালে মাত্র ২৪টি শিশুহত্যা মামলা এবং ২৭টি শিশুধর্ষণ মামলার রায়ের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে বলে সংবাদ মনিটর করে পাওয়া গেছে। এটা শিশুর প্রতি সহিংসতা, বিচারহীনতা এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতার ইঙ্গিত বহন করে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজন।
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০১৯’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য তৈরি করেছে। তবে আশার কথা যে, শিশু অপহরণ, নিখোঁজ ও উদ্ধার, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা, অপঘাত বা আঘাত এবং বাল্যবিবাহর ঘটনা ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন নাসিমা বেগম বলেন, শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পিতা-মাতার সচেতনতা খুব দরকার। পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে বহু শিশু আজ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরো বলেন, বাল্যবিবাহর হার প্রতি বছর নিম্নগামী হচ্ছে, যা অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিশুরা নিজে সোচ্চার হচ্ছে এবং অন্যকেও এখন সচেতন করছে।
বিএসএএফের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০১৯ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে বলেন, সীমিত সময়ের জন্য হলেও সরকারের উচিত ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা। তিনি আরো বলেন, শিশু খুন, ধর্ষণ ও অপহরণ অন্ততপক্ষে এই তিনটি ক্ষেত্রে শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করা ও এর বিচার প্রক্রিয়াটিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে শাস্তি কার্যকর করার বিধান করা উচিত। প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইন সংশোধন করে হলেও এটা করা প্রয়োজন।
বিএসএএফের চেয়ারপার্সন মো. মাহবুবুল হক বলেন, শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং তার ব্যবহার করার সময় এসে গেছে। শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শিশু অধিদপ্তর এবং শিশু কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের জেন্ডার এক্সপার্ট বিথীকা হাসান বলেন, শিশুর প্রতি নির্যাতন বন্ধের জন্য সরকার থেকে শুরু করে সাধারণ জনগোষ্ঠী—সব ক্ষেত্রেই একযোগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
