পাঁচ মিনিটেই খোলা যাবে ব্যাংক হিসাব

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২১

ব্যাংক হিসাব, বিও হিসাব ও বিমা পলিসি খোলা সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় পরিচয়পত্রধারী যে কোনো ব্যক্তি মাত্র পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করেই এসব হিসাব খুলতে পারবেন। এছাড়া ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ব্যাংকিংসহ যে কোনো ডিজিটাল আর্থিক সেবার হিসাবও একই পদ্ধতিতে খোলা যাবে। সশরীরে শাখায় না যেয়েও ঘরে বসেও ই-কেওয়াইসি পদ্ধতিতে হিসাব খোলা যাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ই-কেওয়াইসি নীতিমালা জারি করেছে। গতকাল এ নীতিমালা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কেওয়াইসি বা ‘গ্রাহককে জানো’ হলো—গ্রাহকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি। বর্তমানে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকমের কেওয়াইসি ফরম পূরণ করতে হয়। থাকে অনেকগুলো পৃষ্ঠা। সেখানে কি লেখা থাকে অনেকক্ষেত্রেই গ্রাহক জানেন না। তবে ই-কেওয়াইসি পূরণ করতে হবে মাত্র পাঁচটি ধাপে। শাখা বা এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে কিংবা এজেন্ট তার কাছে গিয়ে হিসাব খুলবেন। এমনকি ব্যাংকের নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহক ঘরে বসে নিজেই হিসাব খুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের মুভিং ছবি দিতে হবে। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিলে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খুলে যাবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং গ্রাহক হয়রানি ও ব্যাংকের ব্যয় কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে হিসাব খোলা ও কেওয়াইসি সংরক্ষণে ব্যাংকের খরচ ৫০ হতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। ১৯টি ব্যাংক, একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ৩৩টি জেলার ৫২টি স্থানে পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো করে সফটওয়্যার ডিজাইন করে ই-কেওয়াইসি পদ্ধতি চালু করতে পারবে। এ জন্য উপযুক্ত সফটওয়্যার স্থাপনের পাশাপাশি ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য নির্দিষ্ট ডিভাইস, ছবি তোলার জন্য ওয়েব বা মোবাইল ক্যামেরা, অনলাইনে এনআইডি যাচাই ও ইলেকট্রনিকসই ক্যাপচার ডিভাইস থাকতে হবে। উভয় ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টধারীর এনআইডি ও জন্ম তারিখ শতভাগ মিলতে হবে। তবে ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং নিজের ও পিতা-মাতার নাম ৮০ শতাংশ মিল থাকলে চলবে। এ উপায়ে খোলা মোবাইল ব্যাংকিংসহ ডিজিটাল আর্থিক সেবা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত হারে লেনদেন করা যাবে। আর ব্যাংক হিসাব থেকে মাসে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। একবারে ১০ লাখ টাকা মেয়াদি আমানত করা যাবে। মেয়াদপূর্তিতে একবারে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। বিও হিসাবে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে। ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১০ লাখ টাকা লেনদেন করা যাবে। জীবন বিমার ক্ষেত্রে তিন থেকে ২০ লাখ টাকা লেনদেন করা যাবে। তবে বার্ষিক প্রিমিয়াম আড়াই লাখের বেশি হবে না। সাধারণ বিমার ক্ষেত্রে ২০ হাজার থেকে আড়াই লাখের বেশি প্রিমিয়াম নেওয়া যাবে না।