কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করে রাখা যাবে না মর্মে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে এই সময়ের বেশি ওএসডি করে রাখা হয়েছে তাদেরকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করতে জনপ্রশাসন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঐ কমিটির প্রধান হবেন একজন জ্যেষ্ঠ সচিব। এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রায় দেন।
এছাড়া রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।
২০১২ সালে ওএসডির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাবেক সচিব এম আসাফউদ্দৌল্লাহ। রিটে বলা হয়, ১৯৯১ সালের ৩ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সর্বনিম্ন ৪৫ দিন এবং সর্বোচ্চ ১৫০ দিন ওএসডি করে রাখার বিধান রয়েছে; কিন্তু বর্তমানে এই সময়ের চেয়ে অধিক সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের ওএসডি করে রাখা হচ্ছে। অনেক মেধাবী কর্মকর্তা ওএসডি অবস্থায় অবসরে যাচ্ছেন। ওএসডির বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন। ঐ রিটের শুনানিকালে হাইকোর্টের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৯ সালের ১৩ মে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে দেখা যায়, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০৫ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। তাদের পেছনে রাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৭ টাকা। পরে এ সংক্রান্ত রিটের ওপর জারিকৃত রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এ রায় দেওয়া হলো। আদালতে রিটকারী পক্ষে আইনজীবী অনীক আর হক ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।
