শীতের কুয়াশার চাদর সরিয়ে সাত সকালে কমলাপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের ফুটবলারদের ১৫ জন। বুকে হাত ভাঁজ করে স্টেডিয়ামে ঢুকলেন খেলোয়াড়রা। প্রথম দিনের অনুশীলনে যতটা মনোযোগী হওয়ার কথা তা হলো না। খেলোয়াড় কম, হেড কোচ জেমি ডে নেই। সাইফ স্পোর্টিংয়ের খেলোয়াড় এবং জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভুইয়া ছিলেন না। আজ দুপুরে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার। মামুনুল ইসলাম, রহমত মিয়া, রায়হান, সোহেল রানা, গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল, সাদ উদ্দিনরা হালকা অনুশীলনে মগ্ন ছিলেন। গোলকিপিং অনুশীলন এবং খেলোয়াড়দের নিয়ে গ্রুপ গ্রুপ ভাগ করে বল নিয়ে ছুটাছুটি করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকল প্রথম দিন। আজ সকালেও একই মাঠে অনুশীলন।
ফেডারেশন কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের ৯ ফুটবলারের মধ্যে রবিউল হাসান এবং সুশান্ত ত্রিপুরা ছিলেন অনুশীলনে। বাকিরা না, তারা ছুটিতে। গতকাল রাতেই বাকি ছয় ফুটবলার গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, তপু বর্মন, ইয়াসিন খান, সুফিল, বিশ্বনাথ ঘোষ, মতিন মিয়া, ইব্রাহিম যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু। দুই একজন না আসতে পারলেও ছুটি কাটিয়ে অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছেন সবাই। পুরোদমেই শুরু হবে জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন। নেপালে যাওয়ার আগে ন্যাশনাল টিমস ম্যানেজমেন্ট কমিটির পূর্ব পরিকল্পনা না থাকার কারণে বসুন্ধরা কিংস তাদের খেলোয়াড় ছাড়েনি এবং এসএ গেমস ফুটবলে অনূর্ধ্ব-২৩ দল অনুশীলন করতে পারেনি। এবার সেটা হচ্ছে না। বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা তো আমাদের খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিয়েছি। ফেডারেশন কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই ছুটি দেওয়া হয়েছিল। ছুটি কাটিয়ে তারা অনুশীলনে যোগ দেবে, এটাই আমি জানি।’
আগামী ১৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের ষষ্ঠ আসর শুরু হবে। হাতে খুব একটা সময় নেই। এরই মধ্যে দুই দিন চলে যাচ্ছে। সময় না থাকায় অনুশীলন ম্যাচও খেলার কোনো সুযোগ থাকছে না। টুর্নামেন্টে নামার আগে অন্তত একটা প্রস্তুতি ম্যাচ হবে কিনা তা বলেননি দলের ম্যানেজার।
গত বছর বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পর ওমান গিয়েছিল গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ খেলতে। ওমানের কাছে হেরে ঢাকায় ফেরা জাতীয় ফুটবলের অনুশীলন এখন আবার শুরু হলো। এবার টার্গেট বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল। গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা বললেন, ফিলিস্তিন এবং বুরুন্ডি শক্তিশালী দল। বাকি দলগুলো নিয়ে আমার আইডিয়া নেই।’ গোলকিপার রানা শেখ রাসেলের ফুটবলার। তাদের দলের কোচিং স্টাফের তালিকায় যুক্ত আছেন কেনিয়ার একজন। তার মাধ্যমে বুরুন্ডি এবং মরিশাস সম্পর্কে জেনেছেন। গতকাল সকালে অনুশীলনে রানা বলছিলেন, ‘বুরুন্ডি এবং মরিশাসের ফুটবলাররা শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী।’
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে খেলবে ৬ দল। দুই গ্রুপে খেলা হবে। প্রতিদিন একটি খেলা হবে। বাংলাদেশ এবং ফিলিস্তিন উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে। ফিলিস্তিন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। গত বারের টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ফিলিস্তিন ২-০ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল। রানা বললেন, ‘ফিলিস্তিন শক্তিশালী দল। র্যাংকিংয়েও তারা এগিয়ে (১০৬)। র্যাংকিংয়ের হিসাব করলে আমাদের চেয়েও এগিয়ে থাকা দেশ রয়েছে এই টুর্নামেন্টে।’
ফিফার র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান (১৮৭), ফিলিস্তিন ছাড়াও বাংলাদেশের অনেক ওপরে রয়েছে বুরুন্ডি (১৫১) এবং মরিশাস (১৭২)। বাংলাদেশের নিচে সেশেলস (২০০) এবং শ্রীলঙ্কা (২০৫)।
ইত্তেফাক/বিএএফ
