শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়ক

বেপরোয়া বালু পরিবহন সড়ক বিনষ্টের আশঙ্কা

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বালু পরিবহনে মহাসড়কের ক্ষতি হওয়ার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন গত বুধবার থেকে শ্যামগঞ্জ-জারিয়া-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কে ভেজা বালু এবং অতিরিক্ত ভারবাহী ১০ চাকার ড্রামট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া, এই মহাসড়কের দুই পাশে বালু সংরক্ষণপূর্বক লোড আনলোড করার কারণে সড়ক পানিতে ভিজে বিনষ্ট হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শত শত ট্রাকে করে অতিরিক্ত ভেজা বালু পরিবহনে চরম হুমকিতে রয়েছে বিরিশিরি সেতুসহ নবনির্মিত শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়কটিও। 

দেখা গেছে, যত্রতত্র বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পৌরবাসী। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় পৌর শহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করে অতিরিক্ত বালু বোঝাই শতশত ট্রাক লরি। সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। এক কথায় শহরের অভ্যন্তরীণ সবগুলো সড়কই এখন বালু ব্যবসায়ীদের দখলে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিরিক্ত ভেজা বালুবাহী ট্রাক বিরিশিরি সেতুর ওপর অবস্থান করায় চরম হুমকিতে রয়েছে সেতুটি। পৌরবাসী প্রবীণ ব্যক্তি মোহন মিয়া বলেন, ভারী যানবাহনে বালু বহনে পৌরসভার রাস্তাঘাট ভাঙছে। যানজটের সময় ট্রাক ভেজা বালু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে পানি চুয়ে পড়ে সব রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। বিকল্প সড়ক খুবই দরকার। এছাড়া মিডিয়াকর্মী রফিকুল ইসলাম, এনজিওকর্মী শুভ্র সরকার বলেন, ‘অতিরিক্ত ভেজা বালু পরিবহনে চরম হুমকিতে রয়েছে বিরিশিরি সেতুসহ নবনির্মিত শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়কটি। নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কটি এখন ভেজা বালি পরিবহনের কারণে বিনষ্ট হওয়ার পথে। যখন যানজটের কারণে বালিবাহী ট্রাকগুলো সড়কে অবস্থান করে তখন পানি পড়ে সড়ক বিনষ্ট হয়। বালি পরিবহনে বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, জনদুর্ভোগ নিরসনেই  অতিরিক্ত ভেজা বালু পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসন গত বুধবার থেকে ভেজা বালি পরিবহন এবং ১০ চাকার ড্রামট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বালু ও পাথর উত্তোলনে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।