সাড়ে আট মাস ইনজুরির কারণে ফুটবল থেকে বাইরে ছিলেন। জাতীয় দলে খেলতে পারেননি নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তপু বর্মন। কি যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন সেই কথা উঠে আসল কাল সকালে জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে। জুনিয়র ফুটবলারদের সঙ্গে সেলফি তোলার অনুরোধ মেটাতে গিয়ে আট মাসের যন্ত্রণার কথা পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারেননি। ততক্ষণে ডাক এসেচে অন্যান্য ফুটবলার গাড়িতে অপেক্ষায়, হোটেলে ফেরার। হাঁটা পথে বলছিলেন তপু বর্মন। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে বাম হাঁটুতে আঘাত পেয়েছিলেন। তাতে ছিটকে গেলেন মাঠের বাইরে। তপু বললেন,‘পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তিন দিন হাসপাতালে ছিলাম। এখন ভালো। শুধু এইটুকু বলে রাখি সাড়ে আট মাস অনেক কষ্ট গেছে।’
দেশের কয়েকশ ফুটবলার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করে ফুটবল মাঠে ফিরতে পারেননি। অনেক স্বপ্নের ফুটবলটা আর খেলাই হয়নি। সেই তুলনায় তপু ভাগ্যবান ফুটবলার। বললেন, ‘অবশ্যই আমি ভাগ্যবান। এমন কত ফুটবলার অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে।’ ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরা ডিফেন্স লাইনে তপু যেন রাজার সিংহাসন ফিরে পেয়েছেন। বসুন্ধরা কিংসের এই ডিফেন্ডার ফেডারেশন কাপ ফুটবলে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন। ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরলে একটা ভয় থাকে। আশঙ্কা থাকে, আবার না ভাঙা জায়গায় আঘাত লাগে। এই ভয়ে থেকে স্বাভাবিক খেলাটাও আসে না। ব্যতিক্রম তপু। ডরভয়ের কোনো বালাই নেই। দুর্দান্ত প্রতাপে লড়াই করে যাচ্ছেন এই ডিফেন্ডার।
আট মাস ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। রক্ষণ ভাগে তার জায়গায় অন্যরা খেলেছেন। এখন কি আবার তপু তার স্থান ফিরে পাবেন? কথাটা শুনেই হাসলেন তপু। বললেন, ‘এটা কঠিন একটা বিষয়। জায়গা থেকে এত দিন সরে থাকলে জায়গা ফিরে পাওয়া কঠিন। আমার অনুপস্থিতিতে অন্যরা ভালো খেলেছে। এখন আমি ফিরেছি যখন আমাকেও ভালো খেলতে হবে।’ কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না? তপু বললেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। ফেডারেশন কাপ ফুটবলে তিন ম্যাচ খেলেই বুঝতে পেরেছি।’ তপুর ফেরায় দারুণ খুশি দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। তপুর ফেরা ডিফেন্স লাইনে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের গত সেমিফাইনালে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে খেলেছিলেন তপু বর্মন। তার কণ্ঠে একটু আত্মবিশ্বাসটা বেশিই মনে হলো। তপু বললেন,‘ফিলিস্তিনের বিপক্ষে আমরা হারলেও সেই ম্যাচে ফাইট করে হেরেছিলাম। ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিলাম, ৯৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল খেয়েছি আমরা। এবার ভালো লড়াই হবে। আমরা সেমিফাইনাল খলতে চাই। আমাদের উচিত হবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা।’
