বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগের তাত্পর্য

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৯

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে ধর্মপ্রাণ মানুষের আজ ঢল নামিয়াছে। এক আল্লাহর প্রতি সমর্পিত মুসল্লিগণের জিকির-আজকারে গুঞ্জরিত ও মুখরিত আজ ইজতেমা ময়দান। এইবারও দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হইতেছে। প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হইতেছে আজ ১০ জানুয়ারি হইতে ১২ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হইবে ১৭ জানুয়ারি হইতে ১৯ জানুয়ারি। ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে ২০১১ সাল হইতেই দুই পর্বে ইজতেমা সম্পন্ন করিবার রীতি চলিয়া আসিতেছে।

বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সমাবেশ। ১৯৪৬ সাল হইতে তাবলিগ জামাতের ঐতিহাসিক এই সমাবেশ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হইয়া আসিতেছে। বাংলাদেশের জন্য ইহা একটি গৌরবের বিষয়। দেশ ও বিদেশের লক্ষ লক্ষ মুসলিম নর-নারী এই ইজতেমায় যোগ দিয়া থাকেন। আরবি শব্দ ইজতেমা অর্থ সমাবেশ বা সম্মেলন। বিশ্ব ইজতেমা তাবলিগ জামাতের এক ধরনের ভ্রাম্যমাণ মাদ্রাসা বা শিক্ষালয় বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। সারা বত্সর তাবলিগ জামাতের মুসল্লিগণ ছোটো ছোটো দলে বিভক্ত হইয়া এক মসজিদ হইতে আরেক মসজিদে পরিভ্রমণ করেন। তাহারা সাংসারিক ও বৈষয়িক ব্যস্ততা পরিহার করিয়া ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন, চর্চা ও প্রচারে ব্যস্ত থাকেন। বাড়ি বাড়ি গিয়া লোকদের দিনি দাওয়াত দেন। বত্সরে আসিয়া তাহারা টঙ্গীতে সকলে একত্রে মিলিত হন। ১৯১০ সালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণপার্শ্বস্থ এলাকা হরিয়ানার ‘মেওয়াত’ অঞ্চল হইতে হজরতজি মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ) যে দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনত শুরু করেন, তাহাই ইমান ও আমলের ক্ষেত্রে আজ ব্যাপক ভূমিকা পালন করিতেছে। হজরতজির মূল কথা ছিল ‘অ্যাই মুসলমানা তুম মুসলমান বনো’। অর্থাত্ ‘হে মুসলিম ভাইয়েরা তোমরা সত্যিকার মুসলমান হও’। ইসলাম ধর্ম ভুলিয়া গিয়া মেওয়াতের লোকেরা অন্য ধর্মের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও আচার-আচরণের প্রতি ঝুঁকিয়া পড়িয়াছিল। তাহার মেহনতের ফলে তাবলিগ জামাত একবিংশ শতাব্দীর সবচাইতে গতিশীল একটি ইসলামি আন্দোলনে পরিণত হয়। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, প্রচারবিমুখ ও স্বেচ্ছাশ্রমমূলক এই দিনি দাওয়াতের কার্যক্রম আজ সারা বিশ্বে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। যাহারা সরাসরি তাবলিগ জামাত করেন না, তাহারাও বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করিয়া লাভ করেন ফায়েজ ও বরকত। দেশি-বিদেশি মুরব্বিদের বয়ান শুনিতে আসেন তাহারা।

আমরা আখেরি নবি হজরত মুহাম্মদ (স)-এর উম্মত। তাই স্বাভাবিকভাবে দিন প্রচারের দায়িত্ব এখন আমাদের উপর ন্যস্ত। এই দায়িত্বের কারণে উম্মতে মুহাম্মদির উপর প্রদান করা হইয়াছে শ্রেষ্ঠত্ব। আল্লাহর বাণী : ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যিনি মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন, নেক আমল করেন ও বলেন, আমি মুসলমানদেরই (অনুগতদের) অন্তর্ভুক্ত (৪১ :৩৩)। আবার রাসুল (স) বলিয়াছেন, ‘আমার পক্ষ হইতে একটি বাণী হইলেও পৌঁছাইয়া দাও’ (সহিহ বুখারি)। তাই দিন প্রচারের গুরুত্ব সর্বাধিক। দিন প্রচার না করিলে আমরা যেমন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করিতে পারিব না, তেমনি আমরা আল্লাহর রহমত হইতে বঞ্চিত হইব।  আশা করি, প্রতি বত্সরের মতো এইবারও বিশ্ব ইজতেমা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ উপায়েই অনুষ্ঠিত হইবে। সার্থক হউক সমাগত মুসল্লিদের শ্রম ও মেহনত।