পৌষের শেষে আবারও দেখা মিলল বৃষ্টির। দেশের কোথাও কোথাও হালকা আবার কোথাও হয়েছে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। আজ শুক্রবার কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি কেটে গেলে হ্রাস পাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। তাপমাত্রা হ্রাস পেলেই রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে বাড়বে শীতের তীব্রতা। এতে আবারও দুর্ভোগে পড়বে মানুষ। স্থবিরতা আসবে জনজীবনে। এদিকে ঢাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এসময় ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার। এ বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আজ শুক্রবার রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা/গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা প্রায় (১-২) ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং অন্যত্র প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা আগামী দুই দিন আরো হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
গতকাল ঢাকায় সামান্য, ঈশ্বরদীতে ৪ মিলিমিটার; গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইলে ৩ মিলিমিটার; শ্রীমঙ্গল, তাড়াশ ও সৈয়দপুরে ২ মিলিমিটার; রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, কুমারখালী, ডিমলা, ময়মনসিংহে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, গত ১৮ দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। কনকনে ঠান্ডায় এখানকার মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। অবশ্য কৃষি বিভাগ বীজতলা পলিথিনে ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, ভোররাত থেকে ভারী কুয়াশা ও বাতাসে বিপর্যস্ত জনজীবন। ভোররাত ও সন্ধ্যার দিকে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এদিকে হাসপাতালে বৃদ্ধি পেয়েছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরোগীর সংখ্যা।
