রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ‘ধর্ষক’ মজনুকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী এ আদেশ দেন। এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক আবু সিদ্দিক আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। বাদীপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু, আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান, মো. নিজামুল হক, গোলাম মোস্তফা খান, ইকবাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এদিকে ধর্ষণের শিকার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেই ছাত্রীকে গতকাল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
মজনুর রিমান্ড আবেদনে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ভিকটিম ফুটপাত দিয়ে ৪০-৫০ গজ সামনে আর্মি গলফ ক্লাব মাঠসংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে আসামি পেছন দিক থেকে তার গলা চেপে ধরে। ভিকটিম চিত্কার করতে গেলে তাকে ভয়ভীতি দেখালে ও কিল-ঘুসি মারলে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন আসামি মজনু ভিকটিমকে ধর্ষণ করে।
মামলার তদারকি কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের উপকশিমনার মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।’
হাসপাতাল ছাড়লেন ঢাবির সেই ছাত্রী
রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেই ছাত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন ঐ ছাত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, মেয়েটি সব ধরনের ট্রমা ও সমস্যা কাটিয়ে এখন সুস্থ আছে। তাই বোর্ড চিকিত্সকদের পরামর্শে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হলে তাকে আবারও আসতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে ঐ ছাত্রীর বাবা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশবাহিনী ও ঢামেক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি দিয়ে গেছেন বলে জানান ঢামেকের পরিচালক।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে ভুল করে কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামেন। সেখান থেকে তার গন্তব্যে যাওয়ার পথটি নির্জন ছিল। পথে তাকে অনুসরণ করে মজনু। একপর্যায়ে তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে ঝোপের আড়ালে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাবি ক্যাম্পাস। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ঘটনার চার দিনের দিনের মাথায় বুধবার মজনুকে আটক করে র্যাব।
