ভেদাভেদ ভুলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন করার আহবান রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ০২:০৬

ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে এবং দল মতের ভেদাভেদ ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। আর এমন কাজের মধ্য দিয়ে লাখো শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ১৬টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সংসদের ২০২০ সালের প্রথম অধিবেশন ও একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এ আহবান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি সরকারি দল ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট সকলকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান এই মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সমুন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জ্বল রাখতে দেশ থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ-প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে বাঙালি জাতিকে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে সমাজের সকল স্তরে জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হবে।

এবছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। আমাদের দৃষ্টি আরও সামনের দিকে, ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে এটাই জাতির প্রত্যাশা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতি, জুয়া, মাদক, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে এবং জনজীবনে স্বস্তি বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: ১০ লক্ষাধিক মানুষের পাকশালা চৌহালীতে

বাংলাদেশ এখন এশিয়ার সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পরপর তিনটি অর্থবছরে ৭ শতাংশের বেশি হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় দ্রুত বেড়েছে। গত এক দশকে মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিন গুণ।

মুজিববর্ষ উদযাপনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “জাতির পিতার জীবনাদর্শ, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য তার অব্যাহত সংগ্রাম, নির্ভীক, দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব এবং তার গভীর দেশপ্রেম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত। নতুন প্রজন্মের কাছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জাতির পিতার জীবন দর্শন ও কর্ম বিশেষভাবে উপস্থাপনের  জন্য মুজিব বর্ষ উদযাপনের বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৭ মার্চ ২০২০ হতে ১৭ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত মুজিববর্ষে দেশ ও দেশের বাইরে সরকারি কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা সকলেই জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যার যার নিজস্ব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে ।

ইত্তেফাক/আরআই