নির্ধারিত সময়ে অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের সমন্বয় সভা চলার মধ্যে অনির্ধারিতভাবে সেখানে হাজির হন চেয়ারম্যান। এরপর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ব্যথিত, ক্ষুব্ধ ও দুঃখিত। আপনারা কি আপনাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন? আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার কারণেই নির্ধারিত সময়ে অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।’
দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, দুদক চেয়ারম্যান নিজ কক্ষে বসেই সভা মনিটরিং করছিলেন, বিষয়টি কারও জানা ছিল না। সভায় প্রবেশ করে তিনি কাউকে সুযোগ না দিয়ে মাইক্রোফোন নিয়ে কমিশনের সচিব, মহাপরিচালক ও পরিচালকদের উদ্দেশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘কীভাবে ত্রুটিপূর্ণ প্রতিবেদন কমিশনে উপস্থাপিত হয়? এতে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মনে রাখবেন, দুদক একটি গণপ্রতিষ্ঠান। জনগণের কাছে দুদকেরও জবাবদিহি রয়েছে। তাই আপনাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।’ দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনুসন্ধান ও তদন্তে টাইম-লাইন না মানার জন্য রেকর্ডপত্র সময়মতো না পাওয়ার বিষয়টি আপনারা বলে থাকেন। কী ভয়ঙ্কর কথা! কে রেকর্ডপত্র দেয় না? যে বা যারা অনুসন্ধান বা তদন্তসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনাদের রেকর্ডপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কেন দুদক আইন, ২০০৪-এর ১৯(৩) ধারায় মামলা হচ্ছে না? আপনারা আইনি দায়িত্ব পালন করবেন। একটিও বেআইনি কাজ করতে পারবেন না।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দেশের জনগণ মনে করে, সর্বত্রই দুর্নীতি রয়েছে। তাই দুদকের প্রতি তাদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। তাদের চাহিদার তুলনায় কমিশনের জোগানতো নগণ্য। এর দায় কে নেবে? আপনাদেরই নিতে হবে। আপনাদের পদোন্নতি, দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ সবইতো দেওয়া হচ্ছে। তারপরও আপনারা কেন নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন না? বছরের শুরুতেই সতর্ক করছি। গুণে গুণে হিসাব নেওয়া হবে। কেউ ব্যর্থ হলে জবাবদিহি করতে হবে এবং শাস্তি পেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দুদক মামলা দায়ের করার পর সেই মামলায় তো ফাইনাল রিপোর্ট (মিথ্যা) হতে পারে না। এ জাতীয় ঘটনা কীভাবে কমিশনে উপস্থাপিত হয়? তাহলে আপনারা কি দুদক আইনের ২৮ ধারা সম্পর্কে সম্যক ধারণাও রাখেন না? কেউ যদি মিথ্যা জেনে বা তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণরুপে নিশ্চিত না হয়ে তথ্য দিয়ে কমিশনে মামলা দায়েরের সুপারিশ করেন এবং অনুমোদন নিয়ে মামলা দায়ের করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৮ (গ) ধারায় মামলা হচ্ছে না কেন? আজ থেকে এ জাতীয় মিথ্যা মামলা দায়েরকারী তিনি যেই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
