ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যালট ইউনিট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও ত্রুটিমুক্ত বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যদি কোনো ব্যক্তি ভোটকেন্দ্র বা গোপন কক্ষ দখল করে, সেক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন। এছাড়াও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার বিধানও রয়েছে। ইসি সচিবালয়ের আইডিইএ প্রকল্পের অপারেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড কমিউনিকেশনের অফিসার ইনচার্জ স্কোয়াড্রন লিডার কাজী আশিকুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ব্যালট ইউনিটে ফিঙ্গার সংযুক্তির ব্যাপারে কমিশন থেকে কিছুই বলা হয়নি।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৭ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার দ্বিতীয় সংস্করণে শেষ পৃষ্ঠায় ‘ইভিএমের ব্যালট ইউনিট অরক্ষিত’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি পত্রিকাটির অনলাইন ভার্সনে ‘ইভিএমে ত্রুটি শনাক্ত, ফিঙ্গার প্রিন্টের পর একজনের ভোট দিতে পারেন আরেকজন’ শিরোনামে প্রতিবেদন দুটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, গোপন কক্ষে ব্যালট ইস্যুর পর ভোটার ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির ঐ কক্ষে প্রবেশাধিকার থাকে না এবং অন্যকারো ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং শিরোনামে বর্ণিত বক্তব্য সমূহকে (ব্যালট ইউনিট অরক্ষিত এবং ত্রুটি শনাক্ত) ইভিএম-এর কারিগরি ত্রুটি হিসেবে উপস্থাপন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও কল্পনাপ্রসূত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কন্ট্রোল ইউনিটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিংয়ের পর ব্যালট ইউনিটে গিয়ে একজনের ভোট আরেক জন দিতে পারবেন।’ ইভিএম ভোট ব্যবস্থায় ব্যালট অংশটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় আলাদা গোপন কক্ষে থাকে। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিভিন্ন প্রার্থীর পোলিং এজেন্টগণের একজন ভোটারকে তার ভোটার নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর অথবা আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাই করে সঠিক ভোটার হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট ইউনিট সক্রিয় করেন। এরপরই ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য গোপন কক্ষে প্রবেশ করেন। উক্ত গোপন কক্ষে শনাক্তকৃত ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশাধিকার থাকে না। আর এসব কার্যক্রমসংশ্লিষ্ট ভোট কক্ষে সব প্রার্থীর এজেন্টগণ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। বিধায় ইভিএমের ব্যালট ইউনিট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও ত্রুটিমুক্ত।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রভাবশালী প্রার্থীর এজেন্টরা পছন্দের প্রতীকে চাপ দিয়ে কনফার্ম বাটন চাপার সুযোগ পান। ফলে ভোটারকে ভোটদান থেকে ফিরে আসতে হয়।’ এটিও ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত খবর। কনফার্ম বাটন গোপন কক্ষে ব্যালট ইউনিটে রক্ষিত থাকে। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ভোটসংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাই গোপন কক্ষে প্রবেশাধিকার রাখেন না। যদি কোনো ব্যক্তি ভোটকেন্দ্র বা গোপন কক্ষ দখল করে, সেক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন। এছাড়াও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার বিধানও রয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসার বাহিনী নিয়োজিত থাকে। এছাড়াও নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণের ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি বিজিবি, র?্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ভোটের দিন কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
ইসির প্রতিবাদ লিপিতে ব্যালট ইউনিটটি সুরক্ষিত থাকার কথা বলা হলেও ইত্তেফাকের পূর্বের প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রভাবশালী প্রার্থীর এজেন্টরা পছন্দের প্রতীকে চাপ দিয়ে কনফার্ম বাটন চাপার সুযোগ পান। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার মধ্যেও গোপন কক্ষে ব্যালট ইউনিটে ভোটারে বাইরে অন্যদের কনফার্ম বাটন চাপ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। যা দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, ব্যালট ইউনিটে ভোটারের বদলে অন্য কেউ নিজের ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে দিতে পারেন। ব্যালট ইউনিটের শতভাগ সুরক্ষার জন্য সেখানেও ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবস্থা চালুর জন্য নিউজে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে ইসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছুই বলেনি।
