যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরান গুলি করে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্ত করেছে

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৩৯

ইরানে বুধবার ১৭৬ জন যাত্রী নিয়ে ইউক্রেনের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি ইরান ভুলবশত: গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট, রাডার এবং ইলেক্ট্রনিক ডাটা বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা এমন দাবি করেছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বৃহস্পতিবার বলেছেন, যান্ত্রিক কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। ‘কারো ভুলের’ কারনে এটি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনিও ইঙ্গিত দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখন ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌছেছে তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ বাড়ছে।

তবে ইরানের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ অনুযায়ী যদি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি পতিত হতো তবে মাঝ আকাশেই সেটি টুকরো টুকরো হয়ে যেত। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পরেও পাইলট বিমানটি রানওয়েতে ফেরত আাানার চেষ্টা করেন বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব?

এদিকে, ইরাকের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোও বিশ্বাস করে বিমানটিকে ইরান ভুলবশত গুলি করে নামিয়েছে। অপরদিকে, ইউক্রেনের বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মিসাইল হামলা কিংবা সন্ত্রাসী হামলাকে সম্ভাব্য কারণ হিসাবে ধরে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ব্ল্যাক বক্স হস্তান্তর

করবে না ইরান

এদিকে, ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকৃত ব্ল্যাক বক্স ফ্লাইট রেকর্ডারটি বিমানের প্রস্ততকারক সংস্থা বোয়িং বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না ইরান। এই দুর্ঘটনাটি ইরানের বিমান সংস্থা তদন্ত করবে তবে ইউক্রেনীয়রাও উপস্থিত থাকতে পারে। ইউক্রেনীয় বোয়িং ৭৩৭-৮০০ তেহরানের বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার ঠিক কয়েক মিনিটের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে আরোহীদের সবাই নিহত হয়। বৈশ্বিক বিমান বিধিমালার অধীনে এই ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাধারণত এসব তদন্তে যুক্ত থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, কয়েকটি দেশই ব্ল্যাক বক্সগুলো বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। তবে ইরান বলেনি কোন দেশ এই ব্ল্যাক বক্সগুলো বিশ্লেষণ করবে।