পয়লা বৈশাখ
১. “বাংলা সন-চালু হবার পর নববর্ষ উদ্যাপনে নানা আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত হয়। নবাব এবং জমিদারেরা চালু করেন ‘পুণ্যাহ’ অনুষ্ঠান। পয়লা বৈশাখে প্রজারা নবাব বা জমিদার বাড়িতে আমন্ত্রিত হতেন। তাদের মিষ্টিমুখও করানো হতো। পান-সুপারিরও আয়োজন থাকত। তবে তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো খাজনা আদায়। মুরশিদাবাদের নবাবেরা এ অনুষ্ঠান করতেন। বাংলার জমিদারেরাও করতেন এ অনুষ্ঠান। জমিদারি উঠে যাওয়ায় এ অনুষ্ঠান এখন লুপ্ত হয়েছে।”
ক.‘আধুনিক মার্কিন সাহিত্য’ বইটি কার লেখা?১
খ.প্রাবন্ধিক ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধে ‘মৌলিক ঐক্য’ বলতে কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।২
গ.উদ্দীপকের নববর্ষ উদ্যাপনের সাথে বর্তমানকালে নববর্ষ উদ্যাপনের বৈসাদৃশ্য ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।৩
ঘ.উদ্দীপকের শেষ চরণটি ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধে আলোচিত নববর্ষের বিভিন্ন মাত্রিকতা অর্জনেরই প্রকৃষ্ট প্রমাণ( বিশ্লেষণ কর।৪
ক.‘আধুনিক মার্কিন সাহিত্য’ বইটি কবীর চৌধুরীর লেখা।
খ. প্রাবন্ধিক ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধে ‘মৌলিক ঐক্য’ বলতে নববর্ষের মূল ভাবনার অভিন্নতাকে বুঝিয়েছেন।
নববর্ষ নতুন বছরের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই নববর্ষ উদ্যাপিত হয়। এর উদ্যাপনে রীতিগত পার্থক্য থাকলেও মূল প্রত্যাশা সকলের একই থাকে। সবাই জীর্ণ ও পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুনকে গ্রহণ করার প্রত্যাশায়ই নববর্ষ উদ্যাপন করে থাকে। আর এ মৌলিক ভাবনা জাতিগত পার্থক্যকেও ছাপিয়ে যায়। নববর্ষ উদ্যাপনের এ অভিন্ন অনুপ্রেরণাকেই প্রাবন্ধিক প্রবন্ধে ‘মৌলিক ঐক্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গ. উদ্দীপকের নববর্ষ উদ্যাপনের সাথে বর্তমানকালে নববর্ষ উদ্যাপনের ধরনগত বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান যা ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের আলোকে জানা যায়। বাঙালি সমাজে নববর্ষ সুপ্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত আছে। এক সময় পরস্পরের বাড়িতে যাওয়া-আসা, শুভেচ্ছা বিনিময়, খাওয়া-দাওয়া, নানা রকম খেলাধুলা ও আনন্দ উত্সব, মেলা ও প্রদর্শনী মিলে সারা বছরের অন্যান্য দিনগুলি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হয়ে এই দিনটি গৌরবমণ্ডিত হয়ে উঠত। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নববর্ষ উদ্যাপনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। উদ্দীপকে প্রাচীনকালের বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে যা বর্তমানকালে অনেকটাই অনুপস্থিত। তখনকার দিনের নবাব, জমিদার এবং খাজনা আদায়ের মতো বিষয়গুলো এখন বিলুপ্ত। ‘পুণ্যাহ’ অনুষ্ঠানও এখন আর পালিত হয় না। অপরদিকে ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধে বর্তমানকালে বাঙালির নববর্ষ উদ্যাপনের ধরন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পূর্বে গ্রামবাংলা নববর্ষের প্রাণকেন্দ্র থাকলেও এখন সে স্থান দখল করেছে শহরাঞ্চল। নববর্ষ উপলক্ষে ব্যবসায়ী মহলে হালখাতা ও মিঠাই বিতরণের অনুষ্ঠান তো হয়েই থাকে। আর এর পাশাপাশি নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী ও মেলার আসর, সঙ্গীতানুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, বক্তৃতা-ভাষণ ইত্যাদিও যুক্ত হয়েছে যা আগে ছিল না। আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট নাগরিক সভ্যতার বুর্জোয়া বিলাস ও ফ্যাশনের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এখানেই উদ্দীপকের নববর্ষ উদ্যাপনের সাথে বর্তমানকালের নববর্ষ উদ্যাপনের ধরনগত বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ.উদ্দীপকের শেষ চরণটি দ্বারা অনুষ্ঠান লুপ্ত হওয়ার যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তাকে ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের আলোকে নববর্ষের বিভিন্ন মাত্রিকতা অর্জনই বলা যায়। সময়ের বিবর্তনে বাঙালির নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। নববর্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক অনুষ্ঠান বিলুপ্ত হয়েছে এবং অনেক নতুন অনুষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। উদ্দীপকের শেষ চরণটি এরই ইঙ্গিত দেয়। উদ্দীপকে প্রাচীনকালের নবাব ও জমিদারদের খাজনা আদায়ের উদ্দেশ্যে উদযাপিত ‘পুণ্যাহ’ অনুষ্ঠানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানটি যে বর্তমানে বিলুপ্ত তার ইঙ্গিত উদ্দীপকে আছে এবং ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধ থেকেও এ বিষয়টি বোঝা যায়। ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের আলোকে নববর্ষের বিভিন্ন মাত্রিকতা অর্জনের বিষয়টি সম্পর্কে জানা যায়। প্রাচীনকালে বাঙালির নববর্ষ যেভাবে উদযাপিত হতো বর্তমানে সেভাবে হয় না। বাঙালির নববর্ষ উত্সবের সাথে জড়িত বিভিন্ন অনুষ্ঠান যা প্রাচীনকালে প্রচলিত ছিল এখন তা বিলুপ্ত। আবার বর্তমানকালের আনুষ্ঠানিকতা এবং শহুরে নাগরিকদের বুর্জোয়া বিলাস ও ফ্যাশনের অভিনব সংযোজন প্রাচীনকালে ছিল না। এ কারণেই প্রবন্ধে নববর্ষের বিভিন্ন মাত্রিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রাচীনকালের কোনো অনুষ্ঠানের বিলুপ্ত হওয়া এবং নতুন করে কোনো অনুষ্ঠানের যুক্ত হওয়া নববর্ষের বিভিন্ন মাত্রিকতারই প্রমাণ বহন করে। সুতরাং সার্বিক দিক বিবেচনা শেষে বলা যায় যে, প্রশ্নে যে মন্তব্যটি করা হয়েছে তা যথার্থ ও সঠিক।
