বাংলা বানানের ‘নিয়মকানুন’

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৪১

শুদ্ধিকরণ

ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শুদ্ধিকরণ । ভাষাকে গতিশীল, সাবলীল ও লাবণ্যময় করে তুলতে শব্দ ও বাক্য হওয়া চাই শুদ্ধ ও নির্ভুল । তবে, এ কথা স্বীকার্য যে, কোনো ভাষাই সম্পূর্ণরূপে ব্যাকরণ শাসিত নয় । কারণ, ব্যাকরণ শুধু ভাষার মৌল কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে । ভাষার অধিকাংশ প্রয়োগ নির্ভরশীল মূলত ব্যবহারকারীর মনস্তাত্ত্বিক বিষয় ও পরিবেশ পরিস্থিতির উপর, যা ভাষা ব্যবহারের ওপর । ভাষার শুদ্ধি-অশুদ্ধির সঙ্গে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট :

১.   বানান অশুদ্ধি

২.  ব্যাকরণঘটিত অশুদ্ধি

২.১ সমাসঘটিত অশুদ্ধি

২.২ লিঙ্গঘটিত অশুদ্ধি

২.৩ প্রত্যয়ঘটিত অশুদ্ধি

২.৪ সন্ধিঘটিত অশুদ্ধি

২.৫ ণত্ব ও ষত্ব বিধানঘটিত অশুদ্ধি

২.৬ রচনাপদ্ধতির অশুদ্ধি

২.৭ বচনঘটিত অশুদ্ধি

২.৮ বিভক্তিঘটিত অশুদ্ধি

৩. প্রবাদ-প্রবচনজনিত অশুদ্ধি

৪. বাক্যের পদক্রমজনিত অশুদ্ধি

৫. বিরামচিহ্নজনিত অশুদ্ধি

১.বানান অশুদ্ধি

বাক্য অশুদ্ধ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ‘বানান ভুল’। বাক্যের কোনো একটি শব্দের বানান ভুলের কারণে সম্পূর্ণ বাক্যের অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে । তাই লেখার সময় বানানের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন । অজ্ঞতা ও মনোযোগহীনতার কারণে বানান ভুল হয়ে থাকে।

২. ব্যাকরণঘটিত অশুদ্ধি

প্রথাগত ব্যাকরণের একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে রূপতত্ত্ব ও ধ্বনিতত্ত্বের আলোচনা । তবে, ধ্বনিতত্ত্বের চেয়ে রূপতত্ত্বের আলোচনা বেশি । বাংলা ব্যাকরণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে লিঙ্গ, বচন, কারক, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ, সন্ধি, ধাতু, শব্দের শ্রেণিবিভাগ, দ্বিরুক্ত শব্দ ইত্যাদি বিষয়বস্তুর আলোচনা । রূপতত্ত্বের পরিধিভুক্ত এসব বিষয়ের প্রয়োগ অনেক সময় আমাদের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে । ফলে শব্দ ও বাক্য পর্যায়ে এসবের ব্যবহার অশুদ্ধ হয় । ব্যাকরণঘটিত অশুদ্ধির মধ্যে ণত্ব ও ষত্ব বিধানঘটিত অশুদ্ধিও কম দায়ী নয় ।

২.১ সমাসঘটিত অশুদ্ধি

সমাস ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয় । অনেকের কাছেই সমাস দুর্বোধ্য মনে হওয়ার কারণে বাক্যে সমাসঘটিত অশুদ্ধি লক্ষ করা যায় । উদাহরণসহ কয়েকটি নিয়ম আলোচনা করা হলো :

নিয়ম ১ : সমাসবদ্ধ পদগুলো যথাসম্ভব একসাথে লিখতে হয়, মাঝখানে ফাঁক রাখা চলে না। যেমন : সংবাদপত্র, পিতাপুত্র, নেশাগ্রস্ত, পূর্বপরিচিত, বিষাদমণ্ডিত, লক্ষ্যভ্রষ্ট, সমস্যাপূর্ণ, রবিবার, মঙ্গলবার, সংযতবাক, স্বভাবগতভাবে, অদৃষ্টপূর্ব ইত্যাদি ।

বিশেষ প্রয়োজনে সমাসবদ্ধ পদটিকে একটি, কখনো একটির বেশি হাইফেন (-) দিয়ে যুক্ত করা যেতে পারে ।

যেমন : মা-মেয়ে, বাপ-বেটা, মা-ছেলে, কিছু-না-কিছু, জল-স্থল-আকাশ ইত্যাদি ।

নিয়ম ২ : বিশেষণ পদ সাধারণভাবে পরবর্তী পদের সঙ্গে যুক্ত হবে না । 

যেমন : সুনীল আকাশ, সুগন্ধি ফুল, লাল গোলাপ, ভালো দিন, সুন্দরী মেয়ে ইত্যাদি ।

কিন্তু, যদি সমাসবদ্ধ পদ অন্য বিশেষ্য বা ক্রিয়াপদের গুণ বর্ণনা করে তাহলে স্বভাবতই সেই যুক্তপদ একসাথে লিখতে হবে ।

যেমন : বেশিরভাগ, কতদূর, শ্যামলাবরণ ইত্যাদি ।

তবে, কোথাও কোথাও সংখ্যাবাচক শব্দ একসাথে লেখা যাবে । যেমন : দুজনা, দুরকম।

নিয়ম ৩ : পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষবাচক হয় । 

যেমন : সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি ।

(সূত্র : ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, ২০১৮, সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম, বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ, ২০১৭, বাংলা লেখার নিয়মকানুন-হায়াত্ মামুদ ।)

বন্ধুরা, আরও জানতে চোখ রাখো ফেইসবুক পেইজে “বাংলা বানানের নিয়মকানুন” গ্রুপে এবং ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার অনুশীলন পাতায় । আমরা আছি তোমাদের সাথে নতুন নতুন বানান নিয়ে ।