বড়ো বাজেটের মিউজিক ভিডিওর ফলাফল ‘শূন্য’

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৩১

সংগীতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা এখন কালেভদ্রে চলে। বছরে বিভিন্ন দিবসে কয়টি নাটক প্রচার হলো, তার ভালো-মন্দের হিসেব চলে। অন্যদিকে সিনেমার অবস্থা ও মুক্তির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হলেও সংগীত নিয়ে আলোচনাটা ঐচ্ছিক বিষয়ের মতো হয়ে গেছে। গত ১০-১৫ বছরে গান এখন পুরোপুরি ডিজিটাল প্লাটফর্মে। যার অন্যতম মাধ্যম ইউটিউব। সিঙ্গেল গান তৈরি করে মিউজিক ভিডিও নির্মাণ, এরপর ইউটিউবে পোস্ট। সেখানে ভিউ গুনে বিচার করা হচ্ছে গানের জনপ্রিয়তা। এরসঙ্গে গত কয়েকবছরে মিউজিক ভিডিওর বাজেট নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। কার মিউজিক ভিডিও কয় লাখ টাকার এবং কার মিউজিক ভিডিওর ভিউ কত। নতুন ও তরুণ সংগীতশিল্পীরা এই প্রতিযোগিতা শুরু করলেও সেই জোয়ারে গা ভাসিয়েছেন দেশের অনেক সিনিয়র সংগীতশিল্পী। যেহেতু শ্রোতাদের গান শোনার মাধ্যম এখন একমাত্র ইউটিউব, তাই মিউজিক ভিডিওর বিকল্প নেই। কিন্তু সমস্যার বিষয় হচ্ছে মিউজিক ভিডিও নিয়ে মাতামাতি চললেও গান নিয়ে সচেতনতা কমছে। মিউজিক ভিডিওতে বেশি খরচের কারণে মিউজিকে খুব একটা খরচ হচ্ছে না। তাই সময়ে সময়ে বিভিন্ন গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও অন্য আরো একটি গানের জনপ্রিয়তার সঙ্গে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে পুরনোটি। এভাবেই চলছে দেশের বর্তমান সংগীতাঙ্গন। তবে এরমধ্যে অনেকেই ভালো কাজের জন্য প্রশংসা পেলেও বিশ্বের মিউজিকের অবস্থা এখন যে পর্যায়ে চলে গেছে সেই জায়গা থেকে আমাদের অবস্থান আশঙ্কাজনক।

তবে পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে নতুন বছরে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন অনেক সংগীতশিল্পী। জানিয়েছেন তাদের নতুন বছরে গান নিয়ে ভাবনার কথা। সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর বলেন, ‘মিউজিক ভিডিও আমাদের জন্য নতুন কিছু না। অনেক আগে থেকে মিউজিক ভিডিওর চর্চাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা এখন মূল গানের চেয়ে মিউজিক ভিডিওর দিকেই নজর দিচ্ছি। একটি বড়ো বাজেটের মিউজিক ভিডিও না করে গানের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু করলে, বাকি অর্থটা অডিওর মানের পেছনে খরচ করলে আমরা ভালো একটি গান পাবো। আর মিউজিক ভিডিও প্রচারের একমাত্র মাধ্যম ইউটিউব। সেখান থেকেও যে মিউজিক ভিডিওর লগ্নি উঠে আসে এমনটা তো না। তাই আমাদের উচিত মূল কাজটা ঠিকঠাক করা।’ এ প্রসঙ্গে আরো বলেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। তিনি বলেন, ‘আমি অনেকদিন গানে বিরতি দিয়েছিলাম। যখন আবারো শুরু করলাম দেখলাম এখানে সবাই মিউজিক ভিডিও নির্ভর এবং বাজেটও বেশ বড়ো। সেই কাজটি আমিও করেছি। অনেকগুলো মিউজিক ভিডিও করেছি বড়ো বাজেটের। কিন্তু আর না। নতুন বছরে নতুন করেই শুরু করবো গান নিয়ে। মিউজিক ভিডিও থাকবে। যেহেতু শুধু অডিও প্রচার করার মাধ্যম আমাদের নেই। কিন্তু মিউজি ভিডিওর বাজেট কম থাকবে। যত অল্পের মাধ্যমে গানের চিত্রটা তুলে ধরা যায়। সেই চেষ্টা থাকবে।’ নতুন বছরে এখন পর্যন্ত কোনো গান আলোচনায় আসেনি। যদিও কয়েকদিন পার হলো নতুন বছরের। আর এই বছর মিউজিকের অবস্থাটা যে খুব ভালো যাবে এমন কোনো আভাসও নেই। তবে মিউজিক ভিডিওর চেয়ে অডিওর দিকে নজর দিলে হয়তো আবারো দেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থাটা অনেকটাই উন্নতির দিকে যাবে এ কথা বলাই যায়।