স্পোর্টস রিপোর্টার
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দাসুন শানাকার ছক্কা বৃষ্টি এবং কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কাছে ৬৮ রানে অলআউট হয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরু করেছিল রংপুর রেঞ্জার্স। টানা চার হারের পর জয়ের মুখ দেখেছিল দলটি। এর মাঝে হারের ক্লান্তি, অধিনায়ক পরিবর্তন, নানামুখী বিতর্কে অশান্ত হয়ে পড়েছিল রংপুর শিবির। শেন ওয়াটসনকে উড়িয়ে এনেও শেষ রক্ষা হয়নি দলটির। রংপুরের জায়গা হয়নি টুর্নামেন্টের সেরা চারে।
বিদায় বেলায় নিজেদের শক্তিমত্তার একটা প্রদর্শনী করেছে রংপুর। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ঢাকা প্লাটুনকে ১১ রানে হারিয়ে বিপিএল শেষ করেছে রংপুর। টসে হেরে ব্যাট করা রংপুর ৯ উইকেটে ১৪৯ রান তুলেছিল। জবাবে ৯ উইকেটে ১৩৮ রানের বেশি যেতে পারেনি ঢাকা। ১২ ম্যাচে এটি তাদের পঞ্চম জয়। আর ১১ ম্যাচে ঢাকার এটি চতুর্থ হার।
রান তাড়া করতে নেমে রংপুরের বোলারদের আঁটসাঁটো বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় ঢাকা। ক্রমেই বাড়তে থাকে আস্কিং রেট। যার চাপেই দলটির মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে। তার পরও লড়াই করেছিল ঢাকা। কিন্তু শাদাব খান, মাশরাফির চেষ্টা ঘুচাতে পারেনি রান-বলের দূরত্ব।
শুরুতে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই এনামুল হক বিজয়ের (৫) উইকেট হারায় ঢাকা। বিজয় রান আউট হন। তামিম ইকবাল-মেহেদী হাসানের জুটি ৪৬ রান যোগ করেছিল। দুজনই আরাফাত সানির শিকার হন। মেহেদী ২০ রান করেন। একপ্রান্ত আগলে থাকা তামিম ফিরেন ১২তম ওভারে। তিনি ৩৪ রান করেন।
মিডল অর্ডারে মুমিনুল ১৮ রান করলেও থিসারা পেরেরা দ্রুত ফিরে যান। তিনি ১০ রান করেন। তারপর আসিফ আলী, আরিফুল ফিরলে ঢাকার জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। তাসকিন আসিফ আলীকে (১), মুস্তাফিজ আরিফুলকে (১) ফেরান। শেষ দিকে শাদাব খান ও মাশরাফি ম্যাচ জমিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। শাদাব ১৬ রান করে ফিরেন। মাশরাফি ১৩ বলে ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। রংপুরের জুনায়েদ খান, তাসকিন ও আরাফাত সানি দুইটি করে, মুস্তাফিজ-গ্রেগরি একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে রংপুরকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা দিয়েছিলেন মাশরাফি। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল পুল করার চেষ্টা করা শেন ওয়াটসন (১০) ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। মেহেদী হাসান একপ্রান্তে রান দিলেও মাশরাফির নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি রংপুর। পঞ্চম ওভারে ডেলপোর্টকে (৬) ফেরান মেহেদী। অনেকক্ষণ রয়েসয়ে থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন নাঈম শেখ। ১৭ রান করে শাদাব খানের শিকার হন এই বাঁহাতি ওপেনার। চতুর্থ উইকেটে লুইস গ্রেগরি ও আল-আমিন জুনিয়র ৪৯ রানের জুটি গড়েন। গ্রেগরিকে থামান থিসারা পেরেরা। গ্রেগরি ৩২ বলে ৪৬ রান করেন।
পরে আল-আমিন, জহুরুল ইসলামের ৪১ রানের জুটিতে একশো পার হয় রংপুরের স্কোর। শাদাবের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৪ বলে ৩৫ রান করেন আল-আমিন। ইনিংসের শেষ তিন বলে চার উইকেট হারায় রংপুর। থিসারা পেরেরার চতুর্থ বলে জহুরুল বোল্ড হন ২৮ রান করে। পঞ্চম বলে তাসকিন বোল্ড হন। পরের বলটি ওয়াইড হলেও রানআউট হন মুস্তাফিজ। শেষ বলে দুই রান নিতে গিয়ে আরাফাত সানিও রান আউট হন। ঢাকার পক্ষে থিসারা পেরেরা ৩টি, শাদাব খান ২টি, মাশরাফি-মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট পান।
