আরো খেলতে চান মাশরাফি

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩০

স্পোর্টস রিপোর্টার

গত বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর ক্রিকেট থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার অবসর নিয়ে আলোচনায় উচ্চকিত হয়েছিল গোটা দেশ। কিন্তু তার নীরবতায় এবং বাংলাদেশের ওয়ানডে ম্যাচ না থাকায় সেই আলোচনা ক্রমেই স্তব্দ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু বিপিএল দিয়ে ক্রিকেটে ফিরেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে মুখ খুলেননি। গতকাল রংপুরের কাছে হেরেছে মাশরাফির ঢাকা প্লাটুন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে যেন গরল উগরে দিলেন মাশরাফি। প্রসঙ্গক্রমে আসা অবসর, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্নে অভিমানও ঝরেছে তার কণ্ঠে। তবে এটুকু স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক যে, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা আরো লম্বা করতে চান। দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছাটুকু মরে যায়নি তার।

আমি খেলতে চাই

ফেব্রুয়ারিতেই বাংলাদেশ সফরে আসবে জিম্বাবুয়ে। যেখানে টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডে সিরিজও হতে পারে। নির্বাচকরা ডাকলে সেই সিরিজে খেলবেন মাশরাফি।

নির্বাচকরা ডাকলে খেলবেন কিনা জানতে চাইলে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেছেন, ‘আমার দিক থেকে আমি বলতে পারি আমি খেলতে চাই। সেটা জাতীয় দল হতে হবে এমন কিছু নয়, আমার জায়গায় যারা খেলছে তারাও ভালো করছে। এটা জরুরি না জাতীয় দলে খেলতেই হবে। এখন বোর্ড যদি মনে করে আমাকে খেলাইতে চায় আমি বলব অবশ্যই খেলব, অবশ্যই।’

তবে অধিনায়ক হলেও ওয়ানডে দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে নাকি চিন্তিত মাশরাফি! বিশ্বকাপে ১ উইকেট পাওয়া এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে অভিমান ভর করেছে তার মনে। অভিমানী উত্তর ছিল এমন, ‘এখন সিলেকশনের তো একটা ব্যাপার। সত্যি বলতে বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে ১ উইকেট পাবার পর আমার মতে আমি দলে সুযোগ পাব না। এটা তো আসলে সিলেকশনের ব্যাপার। নির্বাচকরা যদি মনে করে আমাকে সুযোগ দিবে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। এই মুহূর্তে ৮ ম্যাচে ১ উইকেট পেয়ে আমি কীভাবে আপনাদের সামনে বলি যে আমি জাতীয় দলে সুযোগ পাব? আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে তো আরো আগে বাদ পড়ত।’

বিদায়ে ফুলের তোড়া চান না

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া প্রসঙ্গেও স্পষ্ট কিছু বলেননি মাশরাফি। তবে ঘটা করে বিদায় চান না তিনি। গতকাল অবসর প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আপনি বলতে পারেন আমাকে রিটায়ার সবাই করিয়ে দিয়েছে। আমি নিজেও হয়তবা ঐ জায়গায় অবস্থান করছি। আমি শুধু যেটা খেলছি, সেটাকেই উপভোগ করছি। মাঠ থেকে রিটায়ার করব কী করব না সেটা এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। যদি ওরকম কিছু মনে হয়, ক্রিকেট বোর্ড যদি মনে করে তাহলে চিন্তাভাবনা করব। আমাকে মাঠ থেকে বিদায় দিবেন সবাই, ফুলের তোড়া নিয়ে আসবে; প্রয়োজন নেই। আমি যে রকম আছি ভালো আছি, খুশি আছি। আমি উপভোগ করছি খেলা, খেলছি।’

পাকিস্তানে যেতেন মাশরাফি

বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটার, কোচ পাকিস্তানে যেতে আগ্রহী নন। তবে টেস্ট, টি-২০ খেললে পাকিস্তানে যেতেন মাশরাফি। ক্রিকেটারদের মধ্যে যারা যেতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন আমি যেতাম। আমি এটা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতাম। আমি জানি না আমার পরিবার কী বলত। আপনি যদি শুধু যাওয়ার কথা বলতেন তাহলে আমি যেতাম। হয়তো বা। আমার পরিবার কী বলে এটার ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করে।’