টার্ফ থেকে ঘাসে জামালদের অনুশীলন

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩২

জীবনের অসুস্থতায় ঢুকলেন ফাহিম

সোহেল সারোয়ার

কমলাপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন হয়েছিল প্রথম দুই দিন। সেখানে টার্ফে অনুশীলন করতে হয়েছিল। কমলাপুর স্টেডিয়ামে গতকাল ছিল পাইওনিয়র লিগের খেলা। যে কারণে জাতীয় দলের অনুশীলন হলো ধানমন্ডি শেখ জামাল ক্লাবের মাঠে। ঘাসের মাঠে প্রথম অনুশীলন। একবার টার্ফে আরেকবার ঘাসের মাঠে। এভাবে কি সমস্যা হবে? সমস্যা মনে করছেন না কোচ জেমি ডে। এই ফুটবলাররা দুইভাবেই অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা হবে ঘাসের মাঠে। ১৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠছে। ফিলিস্তিন এবং বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে উদ্বোধনী ম্যাচে। তার আগে বাংলাদেশের ফুটবলাররা নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন। হাতে মাত্র চার দিন রয়েছে। এ সময়টা তাই জেমি ডের জন্য কঠিন  যাবে।

 কোচের দুশ্চিন্তা আক্রমণ ভাগ নিয়ে। গোল পেতে মরিয়া এই কোচ চাইছেন যেভাবেই হোক গোল আদায় করতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ, গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ মাত্র দুটি ম্যাচ পাবে। একটি ফিলিস্তিন ছাড়া ছাড়াও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও আছে শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের ভাগ্য। জেমি যে দেখছেন সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। আরিফুর, মামুনুল ইসলাম, ইব্রাহিম, মতিন মিয়া, রকিব হোসেন, বিশ্বনাথ ঘোষ, সুফিলদের নিয়ে গভীর মনোযোগ জেমি এবং তার দুই সহকারীদের।

এদের সঙ্গে আক্রমণভাগে যোগ দিয়েছেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। জাতীয় দলের স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনের পরিবর্তে ফাহিমকে নেওয়া হয়েছে। জীবন অনুশীলনের প্রথম দিন থেকেই ছিলেন অনুপস্থিত। প্রথম দিনে তার পেটের সমস্যা ছিল। পেটের পীড়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বর। জীবনের পরিবর্তে নতুন মুখ ফাহিম একবারে তরুণ। ২০ বছরের এই তরুণের ভাগ্য বদলে গেছে জীবনের অসুস্থতায়। তবে বড়োদের সঙ্গে পেরে ওঠা কি সম্ভব? সাহসী জবাব ফাহিমের। বললেন, ‘আমি তো ফুটবলে নতুন না। ক্লাব ফুটবলে খেলছি।’ ফাহিম শারীরিকভাবে খুব একটা উন্নত নয়। একেবারে হালকা পাতলা গড়নের হলেও ফাহিমের কণ্ঠে কড়া জবাব। বললেন, ‘শরীর কোনো ব্যাপার না। এই শরীর দিয়েই আমি ফুটবল খেলে আসছি। আমার বিপক্ষে বড়ো বড়ো দেহের বিদেশি ফুটবলার খেলেছে। সেখানে যখন ভয় পাইনি তাহলে এখানেও সমস্যা হওয়ার কথা না।’  ফাহিম বললেন, ‘ফুটবল খেলাটা শুধুই শরীরের নয়, ট্যাকটিকের খেলা।’

দুই জন স্ট্রাইকার দেখা যেতে পারে জাতীয় দলে। মতিন মিয়ার ওপর দায়িত্ব আসতে পারে। বসুন্ধরা কিংসের জার্সি গায়ে মতিন মিয়ার পারফরম্যান্স ভালো। নজর কাড়ছে। জাতীয় দলেও চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত মতিন মিয়া। মূল একাদশে সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরতে চান তিনি। মতিন মিয়া বললেন, ‘আমাদের দিয়ে আক্রমণভাগের অনুশীলন করিয়েছেন কোচ জেমি। আমরা আশাকরি ভালো কিছু করতে পারব।’

অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া যোগ দেওয়ায় পূর্ণতা পেল। পুরো ২৩ ফুটবলার এখন ক্যাম্পে। গতকাল সকালেই প্রথম অনুশীলনে যোগ দিলেন ‘নতুন’ জামাল ভূঁইয়া। বিবাহিত জামালের প্রতি খেলোয়াড়দের বাড়তি আকর্ষণ। জার্মানিতে বিয়ে করেছেন প্রবাসী বাঙালি কন্যাকে। ২০ ঘণ্টার ভ্রমণ ক্লান্তি কাটার আগেই অনুশীলনে যোগ দিলেন তিনি। জামালের চাওয়া, ফিলিস্তিনের বিপক্ষে অন্তত ড্র। ১ পয়েন্ট তুলে নেওয়া।