কুমিল্লা-নোয়াখালী ফোর লেন প্রকল্প

দুইটি অংশে হয়নি এখনো জমি অধিগ্রহণ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৪

ধীরগতিতে চলছে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ফোর লেন প্রকল্পের কাজ। এর মধ্যে এ সড়কের কুমিল্লা অংশের দুইটি স্থানে এখনো জমি অধিগ্রহণ হয়নি। সম্প্রতি কিছু অংশের কাজের টেন্ডার হয়েছে। এ অবস্থায় চলতি বছরের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এজন্য লাগতে পারে বাড়তি সময়। এদিকে ধীরগতির কাজের কারণে ভাঙাচোরা এ সড়কে গর্ত আর ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে যানবাহনের চালক-যাত্রী, পথচারী ও ব্যবসায়ীসহ সড়কের লাগোয়া বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সওজ-কুমিল্লার তথ্যমতে, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকা থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৪৫ কিলোমিটারের কাজ কুমিল্লা সওজ এবং বাকি ১৪ কিলোমিটার নোয়াখালী সওজ বিভাগ তদারকি করছে। এ প্রকল্প কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই ফোরলেন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২০ সালের জুন মাসে তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রমতে, প্রকল্পের কাজ শুরুর এক বছর পর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে কুমিল্লার লালমাই থেকে লাকসাম পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকার টেন্ডার হয়। এখনো টেন্ডার ওপেন হয়নি। এছাড়া সড়কের লাকসাম উপজেলার দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস ও লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার বাইপাস এলাকার জমি এখনো অধিগ্রহণ হয়নি। সওজর একাধিক সূত্র জানায়, কুমিল্লা অংশে কিছু জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হবে না, এজন্য আরো সময় লাগতে পারে।

এদিকে কাজের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগে পড়েছে এই সড়কে চলাচলকারী লাখো মানুষ। কুমিল্লা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মো. ফারুক হোসেন সুমন ও কয়েক জন পরিবহন নেতা বলেন, ‘ব্যস্ততম এই সড়ক জুড়ে ছোটো-বড়ো গর্ত। হেলে-দুলে গাড়ি চলতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। ঢিমেতালে কাজের কারণে প্রতিনিয়ত যানজট, ধুলাবালি ও নানা দুর্ভোগে পড়ে চালক, যাত্রী, পথচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রোগীদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তো রয়েছেই।’ গাড়ির চালক আবুল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েক জন বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার পাশাপাশি যানজটে পড়ে সময়ও বেশি লাগছে।’ উপকূল বাস সার্ভিসের পরিচালক কবির আহমেদ বলেন, ‘ভাঙা সড়কের কারণে প্রতিদিন যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। যা রোজগার হয় তা গাড়ি মেরামতেই চলে যায়। কাজের যে ধীরগতি তাতে এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানি না।’ কুমিল্লা জেলা মোটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, ‘ভোগান্তি রোধে দ্রুত ফোরলেনের কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি। বর্তমানে সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, তাই সড়কটি চলাচলের উপযোগী রাখারও আবেদন করছি।’ লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম, কলেজ শিক্ষক সাইয়েদুর রহমান জানান, ‘বাগমারা বাজারের সড়ক অনেক সরু। এ এলাকায় এখনো ফোরলেনের কাজ আরম্ভ হয়নি। প্রতিদিন এখানে যানজট লাগছে। ধুলাবালিতে সড়কের পার্শ্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, দোকানপাট ও বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা শাখার সভাপতি ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, এলার্জিসহ নানা রোগ হয়, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা।’ সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের অঞ্চলের লাখো মানুষ উপকৃত হবে। কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা হতেই পারে। তাই প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে কিছুটা কষ্ট মেনে নিতে হবে।’ 

সওজ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘কুমিল্লা-নোয়াখালী ফোরলেন প্রকল্পের ৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের কুমিল্লা অংশের প্রায় ১৭ কিলোমিটারের টেন্ডার হয়েছে। এছাড়া লালমাই উপজেলার বাগমারা ও লাকসামের দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে, সহসা ভূমি অধিগ্রহণ করে কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করব। অন্য অংশে তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া কাজটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কিছু জটিলতার কারণে সড়কের কাজ শেষ হতে আরো সময় লাগতে পারে।’