গোলাবাড়ী ও বনছড়ার দুটি ব্রিজে নেই সংযোগ সড়ক

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৭

ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ও দীঘিনালা সংবাদদাতা

ব্রিজ থাকলেও সংযোগ সড়কের অভাবে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলার পশ্চিম গোলাবাড়ী এলাকা ও দীঘিনালা উপজেলার বানছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, জেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নে ২০১২ সালে গোলাবাড়ী ছড়ার ওপর এবং ২০১৭ সালে জেলার দীঘিনালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বানছড়া এলাকায় ঐ ব্রিজ দুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রিজের দুই পাশে পাকা সড়ক না থাকায় ব্রিজটি দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। পশ্চিম গোলাবাড়ীর বাসিন্দা পূর্ণ চন্দ্র ত্রিপুরা ও সুশীল কুমার ত্রিপুরা জানান, অনেক টাকা খরচ করে ব্রিজটি নির্মিত হয়েছে ঠিক কিন্তু আমরা ব্রিজের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছি না। এর ওপর দিয়ে একদিনও গাড়ি চলতে পারেনি।

গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা জানান, খেদাপাড়ার সঙ্গে খাগড়াছড়ি সদরের যোগাযোগ সহজতর করতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে ঠিক কিন্তু বর্তমানে এ সংক্রান্ত নথিপত্র অফিসে খুঁজে পাচ্ছি না। ব্রিজটি সংস্কার এবং রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে, জেলার দীঘিনালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বানছড়া এলাকায় চারটি গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে একটি পাহাড়ি ছড়ার ওপর ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতুও সংযোগ সড়কের অভাবে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে দীঘিনালা সদর ইউনিয়নের অক্ষয়মুনি কার্বারীপাড়া, সমরেন্দু পাড়া, চন্দ্রবাহন পাড়া ও শান্তিরূপ কার্বারীপাড়ার অন্তত ৫০০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রিজ নির্মিত হলেও ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কসহ রাস্তা নির্মাণ না হওয়ায় ব্রিজের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজটি নির্মাণের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আলম সরকার জানান, বানছড়া এলাকার জন্য ব্রিজটি নির্মাণ জরুরি ছিল। এখন ব্রিজের দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ করে জনগণের চলাচলের উপযোগী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।