প্রতিবাদটা সশরীরে হোক

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৪

সুজানা মালিহা

 

নারী নির্যাতন,  যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এসব নিয়ে লেখালিখির শেষ নেই।  বর্তমানে অবস্থাটা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, পত্রিকায় ধর্ষণের খবর দেখলে আমরা পৃষ্ঠা উলটে ফেলি। টিভিতে এই সংক্রান্ত খবর দেখালে আমরা চ্যানেল পালটে দেই। এসব খবর শেয়ারবাজারের দাম ওঠা-নামার মতো হয়ে গেছে। আমাদের মূল সমস্যা হলো, আমরা উপদেশমূলক কথাবার্তা ছাড়া তেমন কিছু করতে পারি না। এসব নিউজ দেখে যখন খুব বেশি খারাপ লাগে, তখনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস। এইটুকুই। বাংলাদেশে এখন যে কোনো কিছুর প্রতিবাদ করার অর্থ হলো পরের দিনই ঐ ঘটনার জন্য ভুক্তভোগী হওয়া। এজন্য আমাদের প্রতিবাদের ভাষাটা সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্তই। নিজেকে নিরাপদ রেখে যতটুকু লেখা যায় আরকি!  অন্যদের বলছি না,  আমার নিজের দিকেই আঙুল তুলছি আমি।  একজন মেয়ের সঙ্গে, একজন মায়ের সঙ্গে এতটা নির্মম আচরণ দেখি, তারপরও পাশ কাটিয়ে চলে যাই। মায়ের জাত হয়েও এতটা নির্দয় কিভাবে হয়ে যাই জানি না। হয়তো নিজের মায়ের জন্য তখন অনেকটা পিছুটান অনুভব করি। ঘুমানোর সময় ভাবনা আসে, যদি ঐ মেয়েটা আমি হতাম!! যদি আমার মা হতো!!! যদি আমার বোন হতো!! আমি কি এমন থাকতাম তখন? আমার প্রতিবাদের ভাষাটা কেমন হতো তখন? তখনো কি একটা স্ট্যাটাস দিয়ে শান্ত থাকতাম? বিশ্বাস করুন, বুকের মাঝখানটায় তখন তীব্র একটা চাপ অনুভব করি। কিন্তু কেন যেন আমাদের এই চাপটা এতোটা ক্ষণিকের যে পরক্ষণেই আমরা মেনে নেই যে, সে তো আমার মা নয়, আমার নিজের বোনও নয়। অতএব আমার তেমন কিছু করার নেই আর।

আমাদের দেশে এমন সব আইনও হয় যা আটকানোর জন্য আন্দোলন করতে হয়, কিন্তু ধর্ষণের আর কোনো নতুন সাজা নেই। আর আইন হলেই বা কী?  এ তো বাংলাদেশ। আইনের বাস্তবতা কে দেবে? আমাদের দেশের বিচারগুলো তদন্ত, প্রমাণ  খোঁজা, পর্দা নিয়ে গবেষণার মধ্যেই আবদ্ধ। আমরা ভাবি যে আমি একা কী বলব? কিন্তু একবার ভেবে দেখি না যে, সবাই মিলে কি একা? বড্ডো দমবন্ধ লাগে আজকাল। খাঁচায় আটকানো পাখিগুলোর ডানা ঝাপটে উড়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যেমন তীব্র থাকে, ঠিক তেমন লাগে!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়