ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্দরমহলে ঝড় বইছে! প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মার্কেলের সরে যাওয়ার ঘোষণায় রাজপরিবার খুবই ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছে। হ্যারি দম্পতি ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এক্ষেত্রে একটি কার্যকর সমাধান বের করতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসার আগেই কানাডায় ছেলের কাছে ফিরে গেছেন মেগান মার্কেল।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান গত বুধবার এক বিবৃতিতে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজপরিবারের কারো সঙ্গে তারা আলোচনা করেননি। গতকাল বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সংকট নিরসনে রানি এলিজাবেথের উদ্যোগের মধ্যেই কানাডায় ছেলের কাছে ফিরেছেন মেগান। বড়দিন উদ্যাপনের জন্য ছেলে আর্চিকে নিয়ে প্রিন্স হ্যারি দম্পতি কানাডায় ছিলেন। গত মঙ্গলবার তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সাবেক অভিনেত্রী মেগান বিয়ের আগে কানাডায় বসবাস করতেন। সূত্র বলছে, কানাডায় কিছু বৈঠকে যোগ দিতে গেছেন মেগান। সেগুলো শেষ করে আবার ব্রিটেনে ফিরবেন।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মেগান ভ্যাঙ্কুভারে ফিরে যখন বন্ধুদের সঙ্গে আলিঙ্গন করছেন, তখন রাজপরিবারের কর্মকর্তারা একটি সমাধান পেতে ব্রিটেন ও কানাডার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নজিরবিহীন এক আলোচনায় বসেছেন। রানি এলিজাবেথ, প্রিন্স চার্লস এবং হ্যারির ভাই প্রিন্স উইলিয়ামস সংকট আরো ঘনীভূত হওয়ার আগে একটি কার্যকর সমাধান চাইছেন। এই কাজে যুক্ত উপদেষ্টারা হ্যারি দম্পতির ভবিষ্যত্ তহবিল প্রদান এবং পুলিশি নিরাপত্তা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তাদের বের করা কোনো সমাধান হ্যারি দম্পতির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেটা নিয়েও তারা সন্দিহান।
ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় আছেন প্রিন্স উইলিয়াম ও তার ভাই প্রিন্স হ্যারি। সে অনুযায়ী প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী কেট মিডলটন, প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য। তাদের নির্দিষ্ট কিছু রাজকীয় দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান এই জ্যেষ্ঠ সদস্যের পদ ও রাজকীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন। তারা বলেছেন, পদ ছেড়ে দেওয়ার পর রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ (সোভেরেইন গ্র্যান্ট) আর গ্রহণ করবেন না। তারা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর জীবনযাপন করতে চান। প্রসঙ্গত, রাজপরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সোভেরেইন গ্র্যান্ট হিসেবে ৮ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড (৯০৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি) বারদ্দ দেওয়া হয়েছিল। হ্যারি দম্পতির দাবি, তাদের আয়ের মাত্র ৫ শতাংশ আসে এই অনুদান থেকে। তারা এরই মধ্যে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গঠন করেছেন, যেটি উত্তর আমেরিকা এবং আফ্রিকায় নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করবে।
রাজপরিবারের সদস্য হওয়ায় এই দম্পতিকে সশস্ত্র নিরাপত্তা দেয় ব্রিটিশ সরকার। তাদের জন্য কত ব্যয় হয় সেটা স্পষ্ট না করলেও রাজপরিবারের নিরাপত্তার জন্য বছরে ১০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হয় সরকারের। দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কানাডা ও ব্রিটেনে থাকার কথা জানিয়েছে এই দম্পতি। এক্ষেত্রে দুই দেশে নিরাপত্তা দিতে ব্রিটিশ সরকারের খরচ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিবিসির সংবাদদাতা জনি ডায়মন্ড জানিয়েছেন, রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের যে বড়ো ধরনের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে—এটা তারই প্রমাণ। রাজকীয় জীবনধারা যে এই দম্পতির জীবনের ওপর চাপ তৈরি করেছে—একটি টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে মেগান তা স্বীকার করেছেন। হয়তো সে কারণেই প্রিন্স হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের বাইরেই সুখের সন্ধান করতে চাইছেন।
