ধানমন্ডিতে বাসার মধ্যে জাল টাকার কারখানা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৭

প্রায় ছয় বছর ধরে ধানমন্ডি ৭/ই সড়কের ১০ নম্বর বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন সাইফুল ইসলাম। এলাকার মানুষ ও অন্য ভাড়াটিয়ারা তাকে ভদ্র হিসেবেই জানতেন। সেই সাইফুলের বাসায় কি না পাওয়া গেল জাল টাকার কারখানা। বিপুল পরিমাণ জাল টাকা আর সরঞ্জাম মিলল বাসার ভেতরে। র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন সাইফুল।

গতকাল শুক্রবার ভোরে এই বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। তার বাসা তল্লাশি করে ওয়্যারড্রব এবং খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েক কোটি টাকার জাল নোট। যার মধ্যে সব ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। এ সময় টাকা তৈরির সরঞ্জাম হিসেবে কাগজ, প্রিন্টার, টোনার, কেমিক্যাল, ডায়াচসহ জাল টাকা তৈরিতে যা যা লাগে তার সবই পাওয়া যায়।অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি কাইমুজ্জামান খান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকার একটা প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তবে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীতে একটি জাল টাকার চক্র কাজ করছে। তিনি বলেন, র্যাবের গোয়েন্দা দল চক্রটি ধরতে নজরদারি শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কদমতলী থেকে শাহ আলম নামের একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার জাল টাকা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিম ধানমন্ডির সাইফুলের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পাওয়া যায় কয়েক কোটি টাকার জাল নোট।

সাইফুলের স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। তাই তাদের বিষয়ে বিস্তারিত পাওয়া যায়নি বলে জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক। তিনি বলেন, চক্রের আরো সক্রিয় সদস্য র্যাবের নজরদারিতে রয়েছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হবে। যে টাকা পাওয়া গেছে সেটা অবশ্যই ১-২ কোটি টাকার ওপরে। গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

সাইফুল ও শাহ আলম আগে গ্রেফতার হয়েছিল কি না জানতে চাইলে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখনো নিশ্চিত না তারা এর আগে আটক হয়েছিল কি না। তবে আমাদের যে অপরাধীর ডাটাবেজ আছে সেটি পর্যালোচনা করে বলা সম্ভব হবে।

সাইফুল যে মহল্লায় থাকেন ঐ মহল্লার দোকানি আফিরুল ইসলাম বলেন, ‘লোকটা ভদ্রই জানতাম। আসত যাইত গালভরা হাসি দিত। কখনো আমাদের কাছে জাল টাকার নোট দিতে দেখিনি। টেরও পাইনি। কিন্তু জাল টাকা বানান, কারবার করেন কখনো বুঝতেই পারিনি!’ ভবনটির তৃতীয় তলার যে ফ্ল্যাটে সাইফুল ভাড়া থাকতেন তার পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন বাড়ির মালিক। অভিযানের পর তিনি তাজ্জব বনে যান। তিনি বলেন, ‘পাশের ফ্ল্যাটে এমন কাণ্ড; কিন্তু এতদিন ধরে টেরই পেলাম না।’

সাইফুলের বাসার নিচের বাসিন্দা রোজিনা বেগম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই তো তাকে চিনি। আমাদের যে হোটেল আছে সেখানে প্রায়ই তিনি নাস্তা করতেন। কোনো দিন তো জাল টাকা তার কাছ থেকে পাইনি। সব সময় হাসিমুখে আমাদের সঙ্গে কথা বলতেন। বিভিন্ন গল্প করতেন।’