বাগেরহাটের সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেনের ইন্তেকাল

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮

জাতীয় সংসদের বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন আর নেই। গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেনের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্লাটে অবস্থানকালে এক সপ্তাহ আগে প্রবীণ এই জননেতা দ্বিতীয় দফা স্টোকে               আক্রান্ত হলে তাকে বিএসএমএমইউয়ের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। তার দুটি কিডনি অকেজো হয়ে পড়লে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মৃত্যুকালে তিনি এক পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এছাড়া শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের,  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রমুখ।

অপরদিকে, মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম। এক বিবৃতিতে জেপির নেতৃদ্বয় বলেন, ডা. মোজাম্মেল হোসেন ছিলেন একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি একই সঙ্গে তার পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

এদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মোজাম্মেল হোসেনকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। শুক্রবার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মোজাম্মেল হোসেনের জানাজা হয়। জানাজার আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার সামরিক সচিব প্রয়াত এমপির কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আলাদাভাবে শ্রদ্ধা জানান প্রয়াত সহকর্মীর প্রতি। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন মোজাম্মেল হোসেনের কফিনে।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দলের নেতাকর্মীরা বাগেরহাট শহরের রেলরোডের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করতে থাকেন। তার মৃত্যুতে দলের কর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে ১টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ বাগেরহাটে নিয়ে আসা হয়। শ্রদ্ধা জানাতে মরদেহ বাগেরহাট শহরের রেলরোডস্থ আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাখা হয়। এর পর বাগেরহাট শেখ হেলাল উদ্দীন স্টেডিয়ামে জুমাবাদ ডা. মোজাম্মেল হোসেনের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।  এতে অংশ নেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, আক্তারুজ্জামান এমপি, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুন আর রশীদ, বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকসহ কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। এর আগে বাগেরহাটে লাশ এসে পৌঁছালে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানসহ সরকারি-বেসরকারি ও দলীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর মোরেলগঞ্জ এসি লাহা স্কুল মাঠে তৃতীয় এবং তার গ্রামের বাড়ি মোরেলগঞ্জ উপজেলার কচুবুনিয়া হাজি রহমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হয়।

মোজাম্মেল হোসেন ১৯৪০ সালের ১ আগস্ট বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার কচুবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম রহমত আলী হাওলাদার ও মা ময়ফুল বিবি। স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন।