দেশে জরায়ুমুখের ক্যানসারে প্রতিদিন গড়ে ১৮ নারী মারা যান। বিশ্বে প্রতিবছর ৫ লাখ ২৮ হাজার নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে মারা যান ২ লাখ ৬৬ হাজার। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি) থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
জরায়ুমুখের ক্যানসার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস’ (এইচপিভি) নামে একটি ভাইরাস দিয়ে জরায়ুর মুখে ক্যানসার হয়। তবে এইচপিভির ১০০ এর ওপরে প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে এইচপিভি ১৬ ও ১৮ প্রজাতি শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে জরায়ুর মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী। যৌন মিলনের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্বারা যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটে। যৌনজীবন বা বিবাহিত জীবনের শুরুতেই সাধারণত এই সংক্রমণ সংঘটিত হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্যানসার সৃষ্টি না করে সংক্রমণটি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। বাল্যবিয়ে, কম বয়সে সহবাস, অধিক সন্তান প্রসব, একাধিক যৌনসঙ্গী থাকা, তামাক সেবন করা, নিরাপদ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব মূলত জরায়ুর মুখে ক্যানসার হওয়ার জন্য দায়ী। তারা বলছেন, কিশোরী বয়সে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিলে এবং নিয়মিত টেস্টের মাধ্যমে রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু এই রোগটি সম্পর্কে এখনো সেভাবে সচেতনতা তৈরি হয়নি। তাই সচেতনতা বাড়াতে আমরা ‘জননীর জন্য পদযাত্রা’ এর আয়োজন করছি। আমাদের উদ্দেশ মানুষকে এই রোগটি সম্পর্কে সচেতন করা। যেন কোনো নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা না যায়।
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও ক্যানসার প্রতিরোধে মোর্চা সংগঠনের সমন্বয়ক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, ‘৯ বছর থেকে ১৪ বছরের মধ্যে কিশোরীকে ‘এইচপিভি’ ভ্যাকসিন নিলে জরায়ুমুখে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ বছর জরায়ুমুখে ক্যানসার প্রতিরোধে জোর দিয়েছি ভ্যাকসিন ও স্ক্রিনিং প্রোগ্রামকে।’ এ পরিস্থিতিতে আজ জানুয়ারির দ্বিতীয় শনিবার পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় জরায়ুমুখে ক্যানসার সচেতনতা দিবস’। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘আপনার কন্যা সন্তানকে এইচপিভি টিকা দিন’। তবে বছরের শুরুতে জানুয়ারি পুরো মাস জুড়েই চলে জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতা মাস। সচেতনতা মাস পালন করছে ক্যানসার বিরোধী মোর্চা সংগঠন ‘মার্চ ফর মাদার’ ও ‘রোটারি ইন্টারন্যাশনাল জেলা-৩২৮১’। সংগঠনটি ‘জননীর কাছে সবার আছে জন্মঋণ, জরায়ুমুখের ক্যানসার সচেতনতায় অংশ নিন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করবে সংগঠনটি।
সরকারি মেডিক্যাল, ক্যানসার ইনস্টিটিউটসহ ৩০০ সেন্টারে বিনামূলে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের পরীক্ষা করা হয়। এর পাশাপাশি কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ১২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ৭/৯, লালমাটিয়া, ব্লক-বিতে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হবে বলে জানান। শুক্রবার সেন্টারটি বন্ধ থাকবে।
ক্যানসার প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোসাররত জাহান সৌরভ বলেন, এই রোগটি সম্পর্কে এখনো সেভাবে সচেতনতা তৈরি হয়নি। তাই আমরা এই ‘জননীর জন্য পদযাত্রা’ এর আয়োজন করছি। আমাদের উদ্দেশ মানুষকে এই রোগটি সম্পর্কে সচেতন করা। যেন কোনো নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ না করেন।’
