একটার দাম কমলে তিনটার বাড়ে

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৩০

ভোক্তাদের জন্য নিত্যপণ্যের বাজারে অনেক দিন ধরেই কোনো সুখবর নেই। শীত মৌসুমেও আশানুরূপ কমেনি সবজির দাম, পেঁয়াজের বাজার এখনো লাগামহীন। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেল, চিনির দাম বাড়তি। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো মসুর ডাল ও ব্রয়লার মুরগি। বাজারে এ দুটি পণ্যের দামই বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরান বাজার ও তুরাগ এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে আমদানিকৃত মসুর ডালের বেশির ভাগই আসে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নেপাল থেকে। তবে দামে কম হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মসুর ডালের চাহিদা বেশি। আর অস্ট্রেলিয়ার দাবানলের কারণে মসুর ডাল আমদানিতে সমস্যা হয়েছে। তবে এ সমস্যা সাময়িক।

গতকাল বাজারে প্রতি কেজি অস্ট্রেলিয়া-কানাডার বড়ো দানা মসুর ডাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ও নেপালি মসুর ডাল ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেশি।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের গতকালের দৈনন্দিন বাজার দরের তালিকায় মসুর ডালের দাম বাড়ার তথ্য তুলে ধরেছে।

এদিকে বাজারে ভোজ্যতেল ও চিনির দামও বাড়তি। প্রতি লিটারে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে খোলা সয়াবিন ৯৮ থেকে ১০০ টাকা, পামঅয়েল ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।

চিনির দাম গত ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে কেজিতে চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছ। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা।

গতকাল তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে বাজার করতে আসা আমিনুর রহমান বলেন, ‘তেল, চিনি থেকে শুরু করে সবকিছুর দামই বাড়তি। আসলে একটার দাম কমলে তিনটার দাম বাড়ে। আমরা ভোক্তারা আসলে জিম্মি হয়ে গেছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।’

তবে পেঁয়াজের কেজি চার-পাঁচ দিন আগে আবার ২০০ টাকা উঠলেও এখন আবার একটু কমতির দিকে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে। তবে প্রতি বছর শীত মৌসুমে যেভাবে শীতের সবজির দাম কমে এবার সেভাবে কমেনি। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে গাজর ৩০ থেকে ৪০, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, নতুন আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টম্যাটো ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া আকারভেদে ফুলকপি ২০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, ব্রকলি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

এদিকে বাজারে দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে রুই, কাতল ২২০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং, মাগুর ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা, চাষের কৈ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, সামুদ্রিক টোনা ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।