স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বকাপ থেকে ফিরে গত জুলাইয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন লিটন দাস। গতকাল রাজশাহী রয়্যালসকে ম্যাচ জেতানো ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর সংবাদ সম্মেলনে ডানহাতি এই ওপেনার বলেছেন, বিয়ে তার জীবনে ইতিবাচক অনেক পরিবর্তন এনেছে। মানসিকভাবে থিতু হয়েছেন, ২২ গজে ব্যাট হাতে আগের চেয়ে সুস্থির হয়েছেন। ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার সুফলও পাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু বিপিএলে।
অতীতের যে কোনো আসরের চেয়ে এবার ধারাবাহিক এই ওপেনার। গতকাল পর্যন্ত ১২ ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ৪২২ রান করেছেন তিনি। লিটনের সঙ্গে আফিফ হোসেনের ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিচ্ছে রাজশাহীকে। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের দেওয়া টার্গেটটা ১৪ বল আগেই পাড়ি দিয়েছে দলটি। গতকাল লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রামকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে রাজশাহী। ৮টি জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্ব শেষ করলো দলটি। ম্যাচ হারলেও চট্টগ্রামের ঝুলিতে রয়েছে সমান পয়েন্ট।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৫৫ রান তুলেছিল চট্টগ্রাম। পরে লিটন দাসের হাফ সেঞ্চুরিতে ১৭.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১৫৬ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় রাজশাহী। লিটন দাস ম্যাচ সেরা হন।
রাজশাহীর রান তাড়া করার মিশনটা খুব সহজ করে দিয়েছেন ওপেনাররা। লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুবর জুটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে ১১তম ওভারে। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে রান উঠে গেছে ৮৮। আফিফ ৩২ রান করে আউট হন। ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। জিয়াউর রহমানের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন তিনি। ৪৮ বলে ৭৫ রানের (১১ চার, ১ ছয়) দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন লিটন। পরে বাকি পথটুকু অনায়সে পাড়ি দিয়েছেন শোয়েব মালিক ও অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। শোয়েব মালিক অপরাজিত ৪৩, আন্দ্রে রাসেল অপরাজিত ২ রান করেন। চট্টগ্রামের পক্ষে নাসুম আহমেদ ও জিয়াউর রহমান ১টি করে উইকেট পান।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করা চট্টগ্রাম প্রত্যাশিত শুরু পায়নি। রাজশাহীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার করতে পারেননি চট্টগ্রামের দুই ওপেনার ক্রিস গেইল ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। ইনিংসের সপ্তম ওভারে বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি। দলীয় ৩৮ রানে শোয়েব মালিকের শিকার হন জুনায়েদ। তিনি ২৩ রান করেন। ২১ বলে ২৩ রান করা গেইলকে ফেরান আফিফ। দলীয় ৬৯ রানে তাইজুলের বলে আফিফের হাতে ক্যাচ দেন ইমরুল কায়েস। তিনি ১৯ রান করেন। পাঁচে আসা ওয়ালটনও (৪) সুবিধা করতে পারেননি। ৯৩ রানে চার উইকেট হারায় চট্টগ্রাম।
তারপরই মূলত চট্টগ্রামের রানটা গতি পেয়েছিল নুরুল হাসান সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়েন সোহান। ১৯তম ওভারে ফেরার আগে ১৭ বলে ৩০ রান (৪ চার, ১ ছয়) করেন। একপ্রান্ত আগলে থাকা মাহমুদউল্লাহ ইনিংস শেষ করেই ফিরেছেন। তিনি ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৮ রান (২ চার, ৩ ছয়) করেন। জিয়াউর অপরাজিত ৭ রান করেন। রাজশাহীর পক্ষে ইরফান, আবু জায়েদ, শোয়েব মালিক, আফিফ, তাইজুল ১টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ২০ ওভারে ১৫৫/৫। রাজশাহী রয়্যালস : ১৭.৪ ওভারে ১৫৬/২। ফলাফল: রাজশাহী রয়্যালস ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : লিটন দাস (রাজশাহী)।
