রক্ষণভাগ নিশ্ছিদ্র রাখতে চান জেমি

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৫

সোহেল সারোয়ার

সময় যত ঘনিয়ে আসছে জাতীয় ফুটবল দলের সমস্যা যেন আরো বাড়ছে। এক দিকে দুশ্চিন্তা পারফরম্যান্স নিয়ে, আরেক দিকে যোগ হয়েছে খেলোয়াড়দের অসুস্থতা এবং চোট। জাতীয় দলের প্রথম অনুশীলনেই যোগ দিতে পারেননি স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন। পেটের পীড়া থেকে জ্বর। শেষ পর্যন্ত আর অনুশীলনেই নামা হলো না। জীবনের গল্প শেষ না হতেই উঁকি দিয়েছিল সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামকে নিয়ে দুশ্চিন্তা। কমলাপুর স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনেই দেখা গেছে তার বাম হাঁটুর ওপরে বরফ বেঁধে রাখা হয়েছে। মামুনুল বলছিলেন ব্যথা, টান লেগেছে। গতকাল সকালে যখন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে অনুশীলন হলো সেখানে থাকতে পারলেন না মামুনুল। চোটটা একটু বেশি বেড়েছে বলে গুঞ্জন অনুশীলন সেশনে। মামুনুলের পর্ব না পার হতেই ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিল। গতকাল দুপুরেই সিদ্ধান্ত হয়েছে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। টুটুল বাদ, ধরে নিয়ে কাল বিকালেই খবর দেওয়া হলো মঞ্জুরুর রহমান মানিককে। মানিক ঢাকার পথে সন্ধ্যায় রওনা দিয়ে ক্যাম্পে উঠেছেন। মাঝপথে তিনি নিজেই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন টুটুলকে বাইরে রেখে তাকে নেওয়া হয়েছে। তারপরও ২৩ জনের দলই থাকছে এখন পর্যন্ত। তবে দুশ্চিন্তা হচ্ছে এক এক করে যেভাবে দলের খেলোয়াড় পরিবর্তন হচ্ছে তা নিয়ে শঙ্কা থাকছে যেটি উড়িয়ে দিতে পারছেন না দলের ম্যানেজমেন্ট। অসুস্থতা এবং চোটের ওপর কারো হাত নেই। সেটা মেনে নিয়েই জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ কাজ করে যাচ্ছে। প্রশ্ন  উঠছে অতিমাত্রায় ঠান্ডার কারণে এমনটি হচ্ছে কি না। কোচিং স্টাফদের একজন বললেন,‘এটা ফুটবলে হতে পারে।’

এই কোচিং স্টাফ যে কথাই বলুক না কেন দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে এটি নিয়ে দুর্ভাবনায় থাকতে রাজি না। হাতে যা আছে তা নিয়ে লড়াই করতে চান বাংলাদেশ কোচ জেমি। তার ভাবনা হচ্ছে এখন সামনে ফিলিস্তিন ম্যাচ। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের ষষ্ঠ আসর। উদ্বোধনী খেলায় বাংলাদেশ। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিনকে কিভাবে মোকাবিলা করা হবে তা নিয়েই যত ভাবনা কোচের। স্ট্রাইকাররা গোল খরায় ভুগছেন।  সহজ গোলের সুযোগ মিস করা একটা অভ্যাসে পরিণত। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এমন টোটকা দিয়েই আক্রমণভাগ গড়ে তোলা হচ্ছে। অনুশীলনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে ৪-১-১-৪ ফরমেশনে খেলতে চায় বাংলাদেশ। জেমি বলেন,‘এই ফরমেশনের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত। কিছু ইতিবাচক ফলও পেয়েছি। ফিলিস্তিনি শক্তিশালী দল। তাই আপাতত আমার খেলোয়াড়দের একটা কমফোর্ট জোন থেকে বের করে আনতে চাই না। তার মানে এই নয় যে, আমরা ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলব।’ কোচ পরিষ্কার করে না বললেও বুঝা যায় ফিলিস্তিনের বিপক্ষে কাউন্টার আক্রমণের টার্গেট বাংলাদেশের। তার আগে রক্ষণভাগ নিশ্ছিদ্র রাখতে চান জেমি। সুশান্ত ত্রিপুরা, বিশ্বনাথরা যা বললেন,‘রক্ষণভাগে বাড়তি চাপ নিতে হবে’।