মোখতার আহমেদ
শীতটা হঠাত্ স্মরণ করায় ‘শীতকাল’ এ—
দাপটে যার কেউ হারায় সম্বিত্ কালে!
স্মৃতির পাতা উলটে দেখি যে, আগে
শীত ছিল এই শীতকালেই পোষ-মাঘে;
সকল কালের পৌষ ও মাঘের এই দু’মাস
শীত—দেখা যায় ঘাঁটলে শীতের অমনিবাস।
ব্যাপারখানা ঘটল এবার যা-উত্তম—
পালটে যাওয়া আবহাওয়ার ব্যতিক্রম!
লোকের মুখে শুনেছি যে লোককথায়—
‘পৌষে তুষে, মাঘের শীতও বাঘের গায়’!
তবে কি সে প্রবাদ হলো সত্যি এ!
হানা দিল পৌষে শীতের দত্যি এ?
‘ঢাকা’ ছিল ঢাকা পড়ে দিনেক-কয়!
কুয়াশাতে যায়নি দেখা সূর্যোদয়।
দিনও ছিল রাতের মতো সূর্যভুক—
যায়নি পাওয়া দেখতে সূর্যালোকের মুখ।
নিরাবরণ হৈম-শীতে অমনি এ—
বাঁচার আশায় একটু গরম দম নিয়ে
হাড়-কাঁপানো ঠকঠকে শীত—এই পোষে
করছে যাপন এক গুহাতে বাঘ-মোষে।
ধনাঢ্যরা সুট-সোয়েটার-জ্যাকেটে
রয় মুড়িয়ে বন্দি হয়ে প্যাকেটে!
আদৌ তাদের শীতের কোনো নেই কাঁপন,
করছে তারা আনন্দে শীত উদ্যাপন!
শীতের প্রকোপ তীব্র যত কমবেশি—
হোক না—তাদের উদ্যাপন হয় জম্পেশই।
পাশাপাশি দেখলে আবার চিত্রভেদ
মনের মাঝে যায় থেকেই দুঃখ-খেদ!
পথের ধারে ফুটপাতে আর বস্তিতে,
উদোম-গায়ের শিশুরা অস্বস্তিতে!
কুজঝটিকায় ঢেকে যখন গোমড়া ব্যোম—
নেয় জ্বালিয়ে ময়লা কাগজ একটু ওম!
