ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড-১২
নিলয় মামুন
মালিবাগ বাজার রোড, মলিবাগ, বকশী বাগ, গুলবাগ, শান্তিবাগ, ইন্দ্রপুরী নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ড। যেখানে সড়কের বেশির ভাগ ভাঙাচোরাসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা রয়েছে যত্রতত্র। সড়কে নেই এলইডি বাতি। তাই এসব নাগরিক সেবা বাস্তবায়নে যারা কাজ করবেন তাদেরই ভোট দিবেন বলে জানান এই এলাকার নাগরিকরা। তবে এবার এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও আওয়ামী লীগের আরো দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। যার কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। তারা কাকে রেখে কাকে বেছে নিবেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্গা করছেন তারা। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী জানালেন আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থীর কারণে তিনি এবার জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি জয়লাভ করবেন।
এবার এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদারকে। তবে এর আগে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল ম ম মামুন রশিদ শুভ্রকে। পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন রশীদ শুভ্রকে পরিবর্তন করে গোলাম আশরাফ তালুকদারকে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন না পেলেও নির্বাচনের মাঠে থাকবেন বলে জানান শুভ্র। অন্যদিকে এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেকান্দার আলী। তিনিও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকবেন তিনিও।
শেখ সেকান্দার আলী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে ফজলে রুবাইয়াত পাপ্পুকে। পাপ্পু জানান, আওয়ামী লীগ থেকে এবার তিন প্রার্থী রয়েছেন। আশা করছি এটি আমার জন্য ভালো হবে। সুষ্ঠু ভোট হলে আমি নির্বাচিত হব। আর জনগণ আমাকে ভোট দিলে আমি নাগরিক সেবার জন্য সব ধরনের সুবিধার ব্যবস্থা করব। আশা করছি—জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি তাদের বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত দিবে। আমি দলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নির্বাচন করছি। আর আমার এখনো অনেক কাজ সম্পন্ন করা বাকি আছে। আশা করছি আমি পুনরায় নির্বাচিত হলে সেসব কাজ সম্পন্ন করব। এই এলাকায় কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। আমি আবার নির্বাচিত হলে সুস্থ বিনোদনের জায়গা তৈরি করব।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ম ম মামুন রশিদ শুভ্র বলেন, নির্বাচনে না দাঁড়ানোর বিষয়ে দল থেকে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। তাই আমি নির্বাচনী মাঠে আছি। আর দল থেকে আমাকেও সমর্থন দেওয়া হয়েছিল এটা সবাই জানে। তাই জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে আমি তাদের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করব। সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন শেখ সারোয়ার আলী। তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
