বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে ইতিহাসের সোনালি পাতা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৯

মো. আবু হানিফ, শেকৃবি সংবাদদাতা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও পদ্মা সেতুর মডেলের আদলে গড়া প্রধান গেটের ভেতর দিয়ে ঢুকতে না ঢুকতেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। বেশ কয়েক বছর ধরেই মেলায় আসা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। প্যাভিলিয়নটিতে প্রবেশ ও বাইর হওয়ার দুটি পথের মাঝে বড়ো করে লেখা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন’। লেখার নিচেই আছে বঙ্গবন্ধুর তর্জনী উঁচু করা সেই বিখ্যাত ছবির ভাস্কর্য। প্যাভিলিয়নের দুই গেটের পাশে স্থাপন করা হয়েছে ফুলের বাগান। বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, কারাগারে অবস্থানের দিনগুলো সম্পর্কে জানতে তুলনামূলকভাবে বেশি আসেন তরুণ দর্শনার্থীরা। তাদের অনেকেই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের সঙ্গে ছবি তুলে থাকেন। আর এসব দর্শনার্থীর একটি বড়ো অংশ শিক্ষার্থী।

প্যাভিলিয়নে ঢুকলেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। বাবা-মেয়ের সেই হাস্যোজ্জ্বল ছবিতে লেখা ‘সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টার সঙ্গে উন্নত বাংলাদেশের কান্ডারি’। তার পাশেই তুলে ধরা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন ঘটনার তথ্য। এর বিপরীতে রাখা হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমপ্রতি বিভিন্ন অর্জনের তথ্য। আরো রয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের করা বিভিন্ন মন্তব্য। প্যাভিলিয়নের ভেতরে ছোটো একটি কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ওপর ভিডিও ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়। এবার বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে ভারত উপমহাদেশ বিভাজনের পর ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ পরিচালনা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক ও তার পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে। প্যাভিলিয়নের ভেতরের একপাশে রয়েছে সারিবদ্ধ একাধিক সেলফ যেখানে সাজানো আছে জাতির পিতার ওপর লেখা নানা বই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, ‘তিনবছর ধরে মেলায় আসি। প্রতিবারই বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন ঘুরে যাই। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। মুজিববর্ষে নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু ও তার আত্মত্যাগকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। মেলায় এলে অবশ্যই এ প্যাভিলিয়নটিতে আসা উচিত। আমার কাছে মনে হয় এটি মেলায় অবস্থিত এক- বাংলাদেশ।’