আরব বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী শাসক সুলতান কাবুস আর নেই

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৩

আরব বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাসক ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাঈদ আল সাঈদ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ১৯৭০ সালে ব্রিটিশদের সহায়তা নিয়ে তিনি তার পিতাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে নিজে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরপর দেশটির তেল সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তিনি ওমানকে উন্নয়নের পথে আনেন। খবর বিবিসির   সুলতান কাবুস ওমানের জনগণের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার হাতেই ছিল সম্পূর্ণ রাজতন্ত্র। যে কোনো বিরোধী মতকে তিনি কঠোরভাবে দমন করতেন। তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। তার চাচাতো ভাই হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদ ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। এর আগে হাইথাম ওমানের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। সুলতান কাবুসের মৃত্যুর পর রাজপরিবারে এক বৈঠক হয় এবং তারপর শপথ গ্রহণ করেন হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদ।

ওমানে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সুলতানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। ওমানের সুলতান একাধারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সুলতান কাবুসের কোনো উত্তরাধিকারী নেই। তার উত্তরাধীকারী হিসেবে তিনি কাউকে নির্বাচনও করেননি। চিকিত্সার জন্য গত সপ্তাহে তিনি বেলজিয়াম গিয়েছিলেন। তখন খবর বেরিয়েছিল যে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত।

নিরপেক্ষ নীতি

গত প্রায় পাঁচ দশক যাবত সুলতান কাবুস ওমানের রাজনীতি একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ওমানের জনসংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ, যার মধ্যে ৪৩ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। ২৯ বছর বয়সে তিনি তার বাবা সাঈদ বিন তৈমুরকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। তারা বাবা ছিলেন ভীষণ রক্ষণশীল। তিনি ওমানে অনেকে বিষয় নিষিদ্ধ করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল-রেডিও শোনা এবং সানগ্লাস নিষিদ্ধ করা। ওমানে কে বিয়ে করতে পারবে, কে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে, এমনকি কে দেশত্যাগ করবে-এসব কিছুর সিদ্ধান্ত তিনি দিতেন। পিতাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সুলতান কাবুস ওমানে আধুনিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দেন। তখন ওমানে মাত্র ১০ কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং তিনটি স্কুল ছিল।

সুলতান কাবুস ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক বছরের মধ্যেই ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সাহায্য নিয়ে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলে উপজাতিদের বিচ্ছিন্নতাবাদী তত্পরতা দমন করেন। সুলতান কাবুসকে মনে করা হতো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তিনি নিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। ২০১৩ সালে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনার সূত্রপাত করাতে ভূমিকা রাখেন সুলতান কাবুস। সে ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাঈদ আল সাঈদ’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এক শোক বার্তায় সুলতানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শুক্রবার সুলতান কাবুস ৭৯ বছর বয়সে মারা যান। তিনি আরব বিশ্বের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করেছেন।