প্রতিযোগী সক্ষম না হলে ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে --------- বিজিএমইএ সভাপতি

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৪

বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের উদ্যোক্তারা এখন বিশ্বব্যাপী কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিযোগী সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা সক্ষম না হলে ব্যবসা ছাড়তে হবে। এছাড়া এ খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ও উচ্চমূল্যের পণ্যে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন বাজারে প্রবেশে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দেন তিনি। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত শীর্ষক ঐ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সমন্বয়ক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী। অর্থনীতিবিদ ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের পরিচালক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদসহ অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা এ সময় তাদের মতামত তুলে ধরেন।

ড. রুবানা হক বলেন, চীন, ব্রাজিল, রাশিয়াসহ নতুন বাজারের বেশ কিছু দেশে রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অর্থনৈতিক কূটনীতি দরকার। কিন্তু সেটি যথাযথভাবে হচ্ছে না। পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীরা ভালো করছে, কারণ সেখানে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। তারা প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বিশেষ অর্থনৈতিক জোন (এসইজেড) নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০০টা জোন তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এখানে কি ধরনের শিল্প গড়ে উঠবে, তাদের সুবিধা কি হবে, কীভাবে পরিচালিত হবে—সে সম্পর্কে সঠিক কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কে এম জমসেদ উদ জামান বলেন, উচ্চ সুদহারের জন্য খেলাপি ঋণ (এনপিএল) বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর অদক্ষতার কারণেই সুদহার নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে ব্যাংক মালিকদের ও নির্বাহীদের সংগঠনের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, দেশের শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে নীতিমালা করতে হবে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে অর্থনৈতিক কূটনীতি সফল করতে হলে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ আল কবীর, জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. সাইদুর রহমান লস্কর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ইউল্যাবের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মোত্তালিব, ডিএসসিইর উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেহানা পারভীন ও সারাহ তাসনীম প্রমুখ।