এইচ এম দুলাল, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
মোংলা বন্দরের আউটার বার ড্রেজিং প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মোট কাজের প্রায় ২৫ শতাংশ সম্পন্ন করতে পেরেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫০ সালে বন্দর প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পর এই প্রথম বন্দর চ্যানেলের প্রবেশদ্বার আউটার বার এলাকায় ড্রেজিং কাজ শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে বেশ কয়েক বার এ এলাকায় ড্রেজিং কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতার কারণে তা ব্যর্থ হতে হয়। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ফেয়ারওয়ে বয়ার পশুর নদীর মোহনায় হিরণ পয়েন্ট ১০ নম্বর বয়া থেকে গভীর সমুদ্রের ৫ নম্বর এলাকার হংষরাজ বয়া পর্যন্ত মোট ১১ কিলোমিটার নদীর নাব্যতা কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পণ্যবাহী বড়ো জাহাজ আসা-যাওয়ার সমস্যা হয়।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগের উপপ্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক বজলুর রহমান জানান, হংকং রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি চীনা কোম্পানি মোংলা বন্দরের আউটার বার এলাকায় ড্রেজিং কাজ করছে। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ডাইক নির্মাণসহ খনন কাজ শুরু করে। কিন্তু আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় এ ড্রেজিং কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসে কাজ আবার শুরু হয়। হংকং রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লি. ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন করপোরেশন নামক দুটি বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই ড্রেজিং কাজ করছে। এ কাজে কাটার ও হোপার সাকশন ড্রেজার ব্যবহার হচ্ছে। চলমান ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে ১ কোটি ৩ লাখ ৯৫ হাজার ঘনমিটার মাটি খনন করা হবে। ইতিমধ্যে কাটার সাকশান ড্রেজার দিয়ে ৫ লাখ ঘনফুট ট্রেইলিং হোপার সাকশান ড্রেজার দিয়ে ২০ লাখ ঘনফুট মাটি কাটা হয়েছে। এ ড্রেজিং কার্যক্রম চলতি বছরের জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী বজলুর রহমান। তিনি আরো বলেন, ড্রেজিং প্রকল্প শেষ হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের পণ্য বোঝাই জাহাজ মোংলা বন্দর জেটিতে প্রবেশ করতে পারবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হক জানান, বন্দর সৃষ্টির পর এই প্রথমবার আউটার বার এলাকায় ড্রেজিং কাজ চলছে। এ কার্যক্রম শেষ হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা চার গুণ বাড়বে।
