প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিপিএড প্রশিক্ষণ
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
মনোহরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডিপ্লোমা-ইন এডুকেশন(ডিপিএড) প্রশিক্ষণে যোগদান নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়গুলোতে দেখা দিয়েছে শিক্ষক সংকট। এতে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘শিক্ষক সংকট—মনোহরগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা করুন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয় উপজেলায় ১০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০টিতে নেই প্রধান শিক্ষক ও ৯৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। এমন পরিস্থিতিতেও ডিপিএড প্রশিক্ষণের জন্য ১০৮ জন শিক্ষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের ৫৬ জন শিক্ষক এক বছরের ডিপিএড প্রশিক্ষণে যোগদান করায় শিক্ষক সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলা সদরের লত্সর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভরণীখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধেক পরিমাণ শিক্ষককে ডিপিএড প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষকরা এক বছর মেয়াদি এ প্রশিক্ষণে যোগদান করায় বছরজুড়ে শিক্ষক সংকটে পড়ল বিদ্যালয়গুলো। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
লত্সর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক শিক্ষককে প্রশিক্ষণে পাঠানোয় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বছরের শুরুতে শিশুদের বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রুটিনমাফিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জানান, দুটি ধাপে প্রণয়ন করা ঐ তালিকার মোট ১০৮ জনের মধ্যে ৫৬ জন প্রশিক্ষণে যোগদান করেছেন। এদিকে বিদ্যালয়গুলো থেকে একাধিক শিক্ষক প্রশিক্ষণে চলে যাওয়ায় শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন নিয়োগ হলে শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণে যাওয়া বিদ্যালয়গুলোর যেখানে শিক্ষক কম সেখানে ডেপুটেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল রানা জানান, ধারাবাহিকভাবে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের বিষয়ে সকল শিক্ষকের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষক সংকটের এ অসুবিধা সাময়িক। তবে যেসব স্কুলে শিক্ষক একেবারেই কম সেখানে সমন্বয় করার বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলেছি।
