মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামে আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে রাইজার নিরাপদ স্থানে স্থাপনে কাজ শুরু করেছে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি। তিনটি টিম গত সপ্তাহ থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০/৫০টির মতো সংযোগ পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটিতে ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সম্প্রতি নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় সংঘটিত দুর্ঘটনা এলাকা থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। রাইজার ও সার্ভিস লাইন যাতে নিরাপদে থাকে সে ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কোম্পানি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের পুরানো পাইপলাইন পরীক্ষার জন্য পেট্রোবাংলা উচ্চ পর্যায়ে চিন্তাভাবনা করছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমেদ মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, আবাসিকের সব লাইন পরীক্ষা করার জন্য একটি উন্নত প্রযুক্তির মেশিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। সিঙ্গাপুরের এক প্রতিষ্ঠান একটি প্রস্তাব দিয়ে গেছে। আরো অন্য কোম্পানিও দিতে পারে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেটা উত্তম মনে হবে সেটি নেওয়া হবে। মেশিনটি গাড়িতে থাকবে এবং এই মেশিনের মাধ্যমে সহজে পাইপ লাইনের ত্রুটি চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
জানা যায়, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার রাইজার রয়েছে। রাইজারগুলো বাসার সামনে খোলা জায়গায় স্থাপনের নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। অনেকেই এসব রাইজার বাড়ির ভেতরে স্থাপন করেছে। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সম্প্রতি পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের ঘটনা তা প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিন আগে নগরীর বাহির সিগন্যাল এলাকায় গ্যাস লাইন লিকেজ হয়ে সৃষ্ট আগুনে তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। জানা গেছে সেখানের মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতে লাইনের কাজ করার সময় গ্যাস লাইনে লিকেজ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ লাইন ৩৫/৪০ বছরের পুরানো। দীর্ঘ সময়ে পাইপ লাইনের বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এছাড়া নগরীতে প্রতিবছর বিভিন্ন সংস্থা ওয়াসা, বিটিসিএল, পিডিবি ও সিটি করপোরেশন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করছে। এসব খোঁড়াখুঁড়ি যারা করেন তাদের বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেই। ফলে বিভিন্ন স্থানের মাটির নিচে বসানো সেবা সংস্থার ক্যাবল ছিদ্র হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে সেবা সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।
চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ লাইনগুলো অনেক পুরানো। বিগত সময়ে লাইনের কোনো সার্ভে হয়নি। রাইজারগুলো যথাযথ স্থানে বসানো হয়নি। কোম্পানির ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করানোর কারণে রাইজার ও সার্ভিস লাইন স্থাপনে ব্যাপক ত্রুটি হয়েছে। আবার রাইজার বাড়ির দরজার বাইরে বসানো হলেও গ্রাহকরা পরবর্তীতে দেয়াল নির্মাণ করে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেছে। এতে গ্যাস জমা হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারওয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, সরবরাহ লাইন পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের তিনটি টিম পৃথকভাবে কাজ করছে। সব রাইজার বাইরে দৃশ্যমান স্থানে থাকতে হবে। প্রধান লাইন থেকে সার্ভিস লাইন নিরাপদে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সকল রাইজার পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের টিম কাজ অব্যাহত রাখবে।
